ইসলামী ব্যাংককে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম

তারল্য সংকটে ধুঁকতে থাকা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (১৭ জুন) দেওয়া এ সহায়তাসহ গত তিন দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির কাছ থেকে মোট ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে ব্যাংকটি।

দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটির চলমান তারল্য চাপ ও গ্রাহকদের লেনদেন স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সহায়তা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। 

গত কয়েক বছরে ঋণ অনিয়ম, বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ এবং আমানতকারীদের আস্থাহীনতার কারণে ইসলামী ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়ে। এর ফলে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন ও বিভিন্ন ধরনের লেনদেনে চাপ তৈরি হয়।

এদিকে, ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। বৈঠক শেষে সংগঠনটির নেতারা সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন।

তাদের অন্যতম দাবি হলো- অনিয়ম ও প্রভাব খাটিয়ে অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ থাকা গোষ্ঠীর হাতে থাকা ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার হয় আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে, নয়তো প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে বিক্রি করতে হবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকটির মালিকানা কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলে তারা মনে করেন।

গ্রাহক ফোরাম আরও জানায়, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের বিষয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের জানিয়েছে। এ বিষয়ে আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকটিতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছে বলে দাবি করেছে গ্রাহক ফোরাম।

দেশের বেসরকারি ব্যাংক খাতের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক। ২০১৭ সালে মালিকানা ও পরিচালনায় বড় পরিবর্তনের পর থেকেই ব্যাংকটিকে ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে এস আলম গ্রুপের প্রভাব বিস্তার, বিপুল অঙ্কের ঋণ বিতরণ, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে দীর্ঘদিনের অনিয়মের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে এখনও ব্যাংকটিকে তারল্য সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকটির সুশাসন নিশ্চিত করাই এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত