আলজাজিরার বিশ্লেষণ

হরমুজ, লেবানন ও ইউরেনিয়াম, যেসব বিষয়ে একমত ওয়াশিংটন-তেহরান

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়।

চুক্তির প্রথম ধারায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানোর অঙ্গীকারও রয়েছে। তবে এতে ইসরায়েলের ভূমিকা বা লেবানন থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং ইরান ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবা বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করবে তেহরান।

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। একই সঙ্গে মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে উভয় পক্ষ একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে সম্মত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধির মাত্রা কমিয়ে আনার পথও বিবেচনায় রয়েছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকে চুক্তিতে ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে ধাপে ধাপে ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অঙ্গীকার করা হয়েছে। তবে অর্থায়নের উৎস কিংবা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো পরিষ্কার নয়।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা যুদ্ধ ও উত্তেজনা কমানোর একটি বড় পদক্ষেপ হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনো বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে কীভাবে, হরমুজে নতুন ব্যবস্থাপনা কেমন হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমাধান কী হবে, এসব বিষয় এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন