বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০৮:২৩ এএম

ধারাবাহিক উন্নতির পথ ধরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী ও আশাব্যঞ্জক চিত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২৪ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মোট ৩৬ হাজার ১০৩ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩৬.১০ বিলিয়ন ডলার)। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা ‘বিপিএম-৬’ (BPM-6) পদ্ধতি অনুসরণ করে গণনা করা রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫৫২ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

এর মাত্র এক দিন আগে, অর্থাৎ ২৩ জুন পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৫ হাজার ৭৯৮ দশমিক ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওই দিন বিপিএম-৬ নিয়মে রিজার্ভের পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছিল ৩১ হাজার ২৪৪ দশমিক ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডলার যুক্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, আইএমএফের স্বীকৃত ‘বিপিএম-৬’ পদ্ধতিতে মূলত দেশের স্বল্পমেয়াদি সমস্ত বৈদেশিক দায়-দেনা বাদ দিয়ে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভের হিসাব করা হয়। আর এই কারণেই গ্রস রিজার্ভের মোট অঙ্কের তুলনায় বিপিএম-৬ অনুযায়ী হিসাবকৃত রিজার্ভের পরিমাণ কিছুটা কম দেখায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রিজার্ভ পুনরুদ্ধারের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে ৩৪ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৫ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার বা ১৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। এর আগের অর্থবছরেও রেমিট্যান্স প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

YA
আরও পড়ুন