বিএনপি নেতাকে গুলি, ভাই-ভাতিজাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টার প্রতিবাদ

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম

নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনী বাজারের হকার্স মার্কেটে বিএনপি নেতা হাজী আবুল কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার ভাই ও ভাতিজাকে অভিযুক্ত করে ফাঁসানোর অচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. আবুল হোসেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে মো. আবুল হোসেন জানান, গত ৭ আগস্ট রাতে চৌমুহনী হকার্স মার্কেটে একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি গুলি চালায়। মার্কেটের সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, হেলমেট পরিহিত দুই সশস্ত্র ব্যক্তি হকার্স মার্কেটের হোটেলের সামনে অবস্থানরত দুই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ছে। এই ঘটনায় পরবর্তীতে হকার্স মার্কেট সমিতির সহ-সভাপতি ইয়াছিন সেন্টু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, ঘটনা শেষ হতে না হতেই তার বড় ভাই আবুল কাশেম সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে তাকে এবং তার ছেলে ইয়াসিন আরাফাত হৃদয়কে ঘটনার মূল ইন্ধনদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করেন। কাশেমের এই দাবিকে পুরোপুরি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট উল্লেখ করে তিনি প্রতিবাদ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আবুল হোসেনের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত হৃদয় বলেন, এটি একটি দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। যদি তদন্তে আমাদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, আমরা আইন অনুযায়ী শাস্তি মেনে নেব। আর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

হৃদয় উল্লেখ করেন, ২০১৬ সাল থেকে পারিবারিক জমিজমা ও ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কাশেম ক্রমাগত তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। ২০১৭ সালে তার বাড়িতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটিয়ে উল্টো কাশেম নিজেই বাদী হয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হলে আদালত থেকে তিনি খালাস পান। এছাড়া ২০২১ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইনে ১৪টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হলেও নিরপেক্ষ তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে তিনি খালাস পান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, গত ২ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কাশেম ও তার সহযোগীরা তাদের বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট এবং দোকান ও যাতায়াতের রাস্তা দখলের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে প্রশাসন ও যৌথ বাহিনীর সহায়তায় অবৈধ দখলদারিত্বমুক্ত করা হলেও কাশেম তার অপরাধ ঢাকতে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছে।

MU
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত