খাল পুনঃখনন শেষে ২২ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

বরগুনার তালতলী উপজেলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিতভাবে সম্পন্ন করার পর অব্যবহৃত ২২ লাখ ৩৯ হাজার ২৪৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থের সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এমন উদ্যোগে প্রশংসায় ভাসছেন তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।

সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় করাকেই যখন অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রবণতা হিসেবে দেখা হয়, তখন কাজের মান ও পরিধি ঠিক রেখে অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার এ ঘটনা ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সরকারি অর্থ জনগণের অর্থ—এই উপলব্ধি থেকে দায়িত্ব পালন করলে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় যেমন রোধ করা সম্ভব, তেমনি প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়ে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তালতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আল-মাসুম।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির’ আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার বড়বগী ও বড় ভাইজোড়া খালের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা।

প্রকল্পটি বড়বগী ইউনিয়নের ছাতনপাড়া এলাকার মোশাররফ হোসেন খানের বাড়ি থেকে শুরু হয়ে খাজুরা কালভার্ট অতিক্রম করে ছোটবগী ইউনিয়নের বলের তবক এলাকার ওয়াজেদ কমিশনারের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রকল্পের আওতায় ২৯৭ জন শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করা হয়।

নির্ধারিত কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্পের ২২ লাখ ৩৯ হাজার ২৪৯ টাকা অব্যবহৃত থাকে। পরে ২৬২৭-০০০৮৫৬৯৮৬৩১ নম্বর চালানের মাধ্যমে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের করের টাকার যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার পর অবশিষ্ট অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ অর্থ দেশের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে ভূমিকা রাখবে।’

তিনি আরও বলেন, সরকারি অর্থের সাশ্রয় ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন অঙ্গীকারবদ্ধ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে কাজের মান ও নির্ধারিত পরিধি ঠিক রেখে বরাদ্দের অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেওয়া শুধু অর্থ সাশ্রয় নয়, এটি দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতারও প্রকাশ। সরকারি অর্থকে ব্যক্তিগত বা প্রকল্পের ‘ব্যয়ের অর্থ’ হিসেবে নয়, জনগণের আমানত হিসেবে বিবেচনা করার এমন মানসিকতা প্রশাসনে ইতিবাচক বার্তা দেয়।

AHA
আরও পড়ুন