সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রিটটি দায়ের করেছিলেন তিনি।
রিট আবেদনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গত ৬ আগস্ট ঘোষিত তফসিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এতে কেন ৭০ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিলকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলের কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি— (ক) উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে। তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।
আদেশের পর আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ গণমাধ্যমকে বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না, যা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ব্যাহত করে। এটি সংবিধান ও গণতন্ত্রের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি আরও দাবি করেন, ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ থাকবে না, ফলে সদস্যদের কোনো স্বাধীনতা থাকে না। এই অনুচ্ছেদ বহাল থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অর্থহীন হয়ে পড়ে। কারণ বর্তমানে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, ফলে নির্বাচনের কোনো প্রয়োজনীয়তা থাকে না।
তবে হাইকোর্ট শুনানি শেষে রিট আবেদনটি খারিজ করে দেওয়ায় বর্তমান তফসিল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো আইনি বাধা থাকল না।
ফের গ্রেপ্তার সাবেক মেজর সাদিক
২১ ঘন্টা পর মুচলেকায় মুক্ত হলেন মাহাদী