গাজায় গণহত্যার অভিযোগ 'এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা': জাতিসংঘে নেতানিয়াহু

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৫ এএম

গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগকে ‘এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে দেওয়া এক উত্তেজনাপূর্ণ ভাষণে তিনি ইসরায়েলের সমালোচকদের তীব্র আক্রমণ করেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর অধিকারও ইসরায়েলের রয়েছে বলে দাবি করেন।

নেতানিয়াহু যখন ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠেন, তখন প্রতিবাদ জানিয়ে বিপুলসংখ্যক প্রতিনিধি সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

এর আগে কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন দেশের নেতারা জাতিসংঘের অধিবেশনে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা পরিচালনার অভিযোগও তোলেন তারা।

এসব সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু ছিলেন ক্ষুব্ধ ও আক্রমণাত্মক। বক্তব্যের বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে আবেগপ্রবণ হয়ে উঠতেও দেখা যায়। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নিউইয়র্কের মেয়রও ছিলেন, যাকেও নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে আক্রমণ করেন।

গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মধ্যেই জাতিসংঘে এই ভাষণ দিলেন নেতানিয়াহু। একই সময়ে আগামী মাসে ইসরায়েলে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি দাবি করেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা তার ভাষায় ‘এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’।

ভাষণে তিনি শুধু গাজা নয়, ইরান প্রসঙ্গেও ইসরায়েলের অবস্থান তুলে ধরেন। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের অধিকার রয়েছে বলেও তিনি জোর দেন।

তবে নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতিসংঘের সভাকক্ষে প্রতিবাদের দৃশ্য তৈরি হয়। একের পর এক প্রতিনিধি হল থেকে বেরিয়ে যেতে থাকেন। এর মধ্য দিয়ে গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েল ও তার সমালোচকদের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য আবারও প্রকাশ্যে আসে।

নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় জাতিসংঘের বাইরে এবং বিভিন্ন মহলেও ইসরায়েলের গাজা অভিযান নিয়ে প্রতিবাদ অব্যাহত ছিল। অন্যদিকে ইসরায়েল সরকার বারবার বলে আসছে, গাজায় তাদের সামরিক অভিযান হামাসের বিরুদ্ধে এবং দেশটির নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়।

জাতিসংঘের মঞ্চে নেতানিয়াহুর বক্তব্য তাই একদিকে ছিল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনার জবাব, অন্যদিকে ইরানকে ঘিরে দেশটির সামরিক অবস্থানের পক্ষে সরাসরি রাজনৈতিক বার্তা।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত