যুদ্ধ থামানোর সিদ্ধান্ত আমেরিকার হাতে: ইরানের প্রেসিডেন্ট

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫ এএম

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করবে কি না, সে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় না এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে যখন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, তখন একে অপরকে হত্যা করার পথে যাওয়া উচিত নয়। কিন্তু ইসরায়েলের উসকানির কারণে তারা আমাদের ওপর এই যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে।’

তার ভাষায়, ‘আমরা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাই না। এটি শেষ করতে চায় কি না, সেটি আমেরিকাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

এর এক দিন আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান ওয়াশিংটনের চাপের কাছে ইরান ‘নতজানু হবে না’ বলে মন্তব্য করেন। নিউইয়র্কে তার সফরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলার কথা জানান।

পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত। এর আগে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের দুই সপ্তাহের মধ্যেই তারা কেন সেটি ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিল?’

তিনি আরও বলেন, বর্তমান মার্কিন সরকার যদি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, তাহলে ইরান তাতে রাজি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নাকি পরে চুক্তি হবে—সেটি ইরানের জন্য বড় বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠক হলেও অগ্রগতি নেই

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন।

তবে ওই আলোচনায় তাৎক্ষণিক কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি।

হুথিদের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান

ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনকে ঘিরে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হিসেবে বিবেচিত এই গোষ্ঠীর মধ্যে সহিংসতা চলার মধ্যেই হুথিদের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন পেজেশকিয়ান।

তিনি দাবি করেন, হুথিরা ইরান সরকারের নির্দেশে কাজ করে না।

ফক্স নিউজের অনুবাদ অনুযায়ী পেজেশকিয়ান বলেন, ‘হুথিরা তাদের নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য নিজেরাই দায়ী। তারা আমাদের কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা নেয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। তবে কোনো পদ্ধতিগত বা সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই।’

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে হুথিদের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ইয়েমেনে রিয়াদ-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে তাদের লড়াইয়ের বিষয়টিও এ অভিযোগের অংশ।

বৃহস্পতিবার সৌদি আরব হুথিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানায়। এর আগে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য সতর্কতাও জারি করা হয়েছিল।

হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে এবং সৌদি ভূখণ্ড ও তেলবাহী জাহাজে হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই উপকূলীয় অঞ্চল সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে।

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় ইরান ও তার মিত্রদের আঞ্চলিক প্রভাব নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রপ্তানিকারক সৌদি আরবের তেল পরিবহনের ওপর এসব জলপথের গুরুত্ব থাকায় সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত