নিউইয়র্কে পেজেশকিয়ান-আরাঘচিকে গ্রেপ্তারের দাবি

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ইরানের ভেতরের একাধিক ব্যক্তি। ইরান ইন্টারন্যাশনালকে পাঠানো বার্তায় তারা জানায়, জানুয়ারি ২০২৬-এর বিক্ষোভ দমনে দায়ীদের নিউইয়র্কে অবাধে চলাফেরা করতে দেওয়া নিয়ে তারা ক্ষুব্ধ।

প্রতিবেদনটিতে ইরানের ভেতর থেকে পাঠানো বার্তার ভিত্তিতে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান ও আরাঘচি নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর অনেকেই তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। কেউ কেউ জানুয়ারি মাসের বিক্ষোভ দমনে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রমাণ জাতিসংঘের কাছে তুলে ধরারও আহ্বান জানান।

ইরানবিষয়ক জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধান মিশনের নতুন প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি ২০২৬-এর বিক্ষোভ দমনের সময় হত্যাকাণ্ড, কারাবন্দি করা এবং গুরুতরভাবে স্বাধীনতা হরণের মতো বিভিন্ন লঙ্ঘন মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়েছে। মিশনের চেয়ার সারাহ হোসেইন বলেন, প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা ইরান সরকারের প্রকাশিত সংখ্যার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে।

ইরান থেকে পাঠানো কয়েকটি বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, একদিকে ইরানে বিক্ষোভ দমন নিয়ে কথা বলা হলেও অন্যদিকে অভিযুক্ত ইরানি কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকেও এ প্রসঙ্গে টেনে এনেছেন কয়েকজন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়র প্রার্থী থাকাকালে মামদানি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের কথা বলেছিলেন। সেই অবস্থানের সঙ্গে তুলনা টেনে কয়েকজন প্রশ্ন তুলেছেন, ইরানি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতিসংঘের আয়োজক দেশ হিসেবে ইরানি প্রতিনিধিদলের মূল সদস্যদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া ওয়াশিংটনের দায়িত্বের অংশ। একই সঙ্গে তাদের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আরাঘচির অনুরোধে তার নিউইয়র্ক অবস্থানের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরান থেকে পাঠানো বার্তাগুলোতে পেজেশকিয়ানের ভূমিকা নিয়েও নানা মন্তব্য এসেছে। কয়েকজন লেখক দাবি করেছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো তার হাতে নেই এবং জাতিসংঘে তার উপস্থিতি মূলত সরকারের ভাবমূর্তি তুলে ধরার একটি আয়োজন। কেউ কেউ তার নিউইয়র্ক সফরকে সরকারের বৈধতা প্রদর্শনের প্রচেষ্টা হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ভেতর থেকে আসা বার্তাগুলোর একটি অংশে সম্ভাব্য কোনো চুক্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হলে জানুয়ারি মাসের হত্যাকাণ্ড ও দমন-পীড়নের বিষয়টি আলোচনার বাইরে চলে যেতে পারে। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

এএস
আরও পড়ুন