অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলকে ‘যুদ্ধে যেতে’ হবে এবং গাজায় যে ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে, সেখানেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াইএনইটির একটি পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্মোটরিচ পশ্চিম তীরে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ভেঙে দেওয়ার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্মোটরিচ বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলকে ‘যুদ্ধে যেতে’ হবে এবং “গাজায় যা করেছি, সেখানে তা করতে হবে।” ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সীমিত প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও তিনি আপত্তি জানান এবং সংস্থাটি বিলুপ্ত করার পক্ষে অবস্থান নেন।
স্মোটরিচ শুধু পশ্চিম তীর নিয়েই বক্তব্য দেননি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা গাজার অংশ এবং দক্ষিণ লেবাননও ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করার পক্ষে একাধিকবার অবস্থান নিয়েছেন স্মোটরিচ। তাঁর এসব বক্তব্য ইসরায়েলি সরকারের ভেতরে পশ্চিম তীর ও গাজা নিয়ে আরও কঠোর নীতির পক্ষে থাকা ডানপন্থি অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এদিকে পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা ও উত্তেজনা বেড়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর এক ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর হামলায় এক ইসরায়েলি নিহত হওয়ার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেখানে নিরাপত্তা জোরদার, সেনা মোতায়েন ও গ্রেপ্তার বাড়ানোর নির্দেশ দেন। একই ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক ফিলিস্তিনি নিহত হন; সেনাবাহিনী দাবি করে, ওই ব্যক্তি গাড়ি দিয়ে হামলার চেষ্টা করেছিলেন যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
১৯৯০-এর দশকের অসলো চুক্তির পর পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সীমিত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করে আসছে। স্মোটরিচ দীর্ঘদিন ধরেই এই কাঠামোর বিরোধিতা করে আসছেন।
তাঁর নতুন বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে বিতর্ক চলছে। ওয়াইএনইটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে পশ্চিম তীরের বসতি ও সহিংসতা ঘিরে ইসরায়েলি রাজনীতিতে তীব্র মতপার্থক্যের চিত্রও উঠে এসেছে।
ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে স্মোটরিচের এই বক্তব্য দেশটির ডানপন্থি রাজনৈতিক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে সামনে এসেছে।
তবে পশ্চিম তীর, গাজা বা দক্ষিণ লেবাননকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার মতো পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সামরিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক তিন ধরনের বড় প্রশ্ন রয়েছে। স্মোটরিচের বক্তব্য তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান; এটিকে ইসরায়েল সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সমালোচনা রয়েছে। ফলে সেখানে গাজার মতো পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান নতুন করে সংঘাত ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে—যদিও এর বাস্তব রাজনৈতিক পরিণতি এখনো অনিশ্চিত।
বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ
উবার বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড হলেন এসএম জামশেদ হাসান