রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে ইসরায়েল চাইলে গাজায় বন্দি সব জিম্মিকে আরও এক বছর আগেই মুক্ত করে ফিরিয়ে আনতে পারত—এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাবেক জিম্মি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক মেজর জেনারেল (অব.) নিটজান আলোন।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসি আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি করেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর জিম্মি মুক্তির বিষয়ে আইডিএফের (IDF) প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন নিটজান আলোন। গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন।
আলোচনায় আলোন বলেন, শেষ পর্যন্ত জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় এক বছর আগেই সব বন্দিকে মুক্ত করা সম্ভব ছিল এবং এর ফলে যুদ্ধের কৌশলগত ফলাফলের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ত না। তিনি আরও বলেন, "আমরা যদি এটি করতে পারতাম, তবে বন্দিদশায় নিহত হওয়া অনেক জিম্মিকে বাঁচানো যেত এবং আমরা সেই সুবর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া করেছি।"
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে তিনি বলেন, যুদ্ধ অনেক দীর্ঘায়িত হয়েছে। আমার ধারণা, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও অন্যান্য রাজনীতিবিদরা কৌশলগত দৃষ্টিকোণের পাশাপাশি নিজেদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয়টিও মাথায় রেখেছিলেন। এই সমস্ত বিষয়ই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমি নিশ্চিত যে আমরা যুদ্ধটি আরও সংক্ষেপ করতে পারতাম, হয়তো এক বছর আগেই সব বন্দিকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে পারতাম এবং উভয় পক্ষের হাজার হাজার প্রাণ রক্ষা করতে পারতাম।" বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে আলোন বলেন, ইসরায়েলের এমন এক নেতৃত্ব প্রয়োজন যারা বাস্তবতাকে উপলব্ধি করে সত্যিকারের আশা জোগাবে, কোনো ‘টোটাল ভিক্টরি’ বা সার্বিক বিজয়ের ফাঁকা স্লোগানের ওপর নির্ভর করবে না।
এর আগে গত মাসে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ গাজায় জিম্মিদের মুক্তির কৃতিত্ব দাবি করলে আলোন তার তীব্র প্রতিবাদ জানান। আলোন বলেন, স্মোট্রিচ নিজেই বিভিন্ন সময়ে চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন, তাই তিনি এর কৃতিত্ব নিতে পারেন না; বরং জিম্মিদের মৃত্যুর জন্য তার অবস্থানও আংশিকভাবে দায়ী। উল্লেখ্য, হামাস ও অন্যান্য গোষ্ঠী ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর আক্রমণ চালিয়ে মোট ২৫১ জনকে জিম্মি করেছিল। এর মধ্যে ১৬৬ জন জিম্মিকে জীবিত এবং ৮৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ইমাম আলী (রা.)-এর মাজার ঘিরে কীভাবে নাজাফ হয়ে উঠল বিশাল ধর্মীয় নগরী
প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী