আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচটি যেন শেষ হওয়ার পরও শেষ হলো না। বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে এক গোল ও দুটি অ্যাসিস্টের পর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে জমে থাকা বিদায়ের আবেগ আরও বাড়িয়ে দেয় বিশেষ ড্রোন শো। অন্ধকার আকাশজুড়ে আলো দিয়ে মেসির নানা প্রতিকৃতি ও প্রতীক ফুটিয়ে তোলা হয়। শেষ মুহূর্তে আকাশে ভেসে ওঠে স্প্যানিশ ভাষার বার্তা—‘গ্রাসিয়াস লিও’, অর্থাৎ ‘ধন্যবাদ, লিও’।
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই মনুমেন্তালের আকাশে শুরু হয় এই আয়োজন। অসংখ্য ড্রোনের আলোয় কখনো ফুটে ওঠে মেসির অবয়ব, কখনো দেখা যায় তার নাম ও আর্জেন্টিনার পরিচিত বিভিন্ন প্রতীক। একের পর এক আলোকচিত্র বদলাতে বদলাতে শেষ পর্যন্ত আকাশে স্থির হয় ‘গ্রাসিয়াস লিও’ বার্তাটি। স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো দর্শকের জন্য এটিই হয়ে ওঠে মেসির বিদায়ী রাতের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
অবশ্য ম্যাচের শুরু থেকেই মেসিকে ঘিরে ছিল বিশেষ আয়োজন। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবার মাঠে নামার আগে সতীর্থ ও দর্শকদের কাছ থেকে সম্মাননা পান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ম্যাচের ১০ মিনিটে তাকে সম্মান জানাতে এক মিনিটের জন্য খেলা থামানো হয়। তখন করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মনুমেন্তাল।
মাঠের পারফরম্যান্সেও নিজের ছাপ রাখেন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার কর্নার থেকে নিকোলাস ওতামেন্দি গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। এরপর মেসির পাস থেকে দ্বিতীয় গোলটি করেন নিকো পাজ। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজেই গোল করে দলের ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন মেসি।
বিদায়ী ম্যাচে তাই এক গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট নিয়ে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। জাতীয় দলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচেও পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেন তিনি।
শেষ বাঁশির পরও মেসিকে ঘিরে চলতে থাকে আনুষ্ঠানিকতা। রেফারি ফার্নান্দো ভেখার তাকে বিশেষ হলুদ ও লাল কার্ডের একটি সেট উপহার দেন। ম্যাচের বলও তুলে দেওয়া হয় মেসির হাতে। এরপর মনুমেন্তালের আকাশে ড্রোনের আলোয় ‘গ্রাসিয়াস লিও’ বার্তার মধ্য দিয়ে যেন আনুষ্ঠানিক পর্দা নামে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ভারতের ৩ দফা শান্তি পরিকল্পনা