হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন

তারেক রহমানের ভারত সফরের আপাতত সম্ভাবনা নেই

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিগগিরই ভারত সফরের সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। দুই দেশের ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি, সফরের তারিখ নির্ধারণ না হওয়া এবং কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় নিকট ভবিষ্যতে নয়াদিল্লি সফর হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের ৬ অক্টোবরের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারত এখনো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরের তারিখে একমত হতে পারেনি। তারেক রহমান অক্টোবরে জাপান সফরে যেতে পারেন এবং নভেম্বরে তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে তার আন্তর্জাতিক সফরসূচিও দিল্লি সফরের জন্য সময় বের করার ক্ষেত্রে একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুই দেশের কূটনৈতিক সূচিতেও ব্যস্ততা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনেও আগামী কয়েক মাসে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক কর্মসূচি রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদি ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর ফিলিপাইনে অনুষ্ঠেয় আসিয়ান সম্মেলনে অংশ নেবেন। এরপর ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও বেলজিয়াম সফরের সম্ভাব্য কর্মসূচিও রয়েছে। ফলে চলতি বছরের শেষদিকে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সময়সূচিতে পারস্পরিক সমন্বয় করা কঠিন হতে পারে।

এর আগে তারেক রহমানকে ভারত দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানিয়েছিল- একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য। তবে বাংলাদেশ গত মাসের ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেয়নি।

বাণিজ্য বৈঠকেও জটিলতা
শুধু প্রধানমন্ত্রীর সফরের তারিখ নয়, ঢাকা-দিল্লির কয়েকটি প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠকের সময়সূচিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দিল্লিতে দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেড-এর বৈঠকের পর দুই দেশের বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রানজিট ও সীমান্ত বাণিজ্যসহ অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বৈঠক হওয়ার পর বাণিজ্যসংক্রান্ত বৈঠক আয়োজন করা যেতে পারে। একই সঙ্গে কনস্যুলার বিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের তারিখ নিয়েও দুই দেশ কাজ করছে।

সফর পুরোপুরি বাতিল নয়
তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে সফর বাতিল হিসেবে দেখছে না সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। বরং সফরের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি- এটাই মূল বিষয়। অক্টোবরের শুরুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও বলেছেন, ঢাকা কখনো তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নাকচ করেনি। তিনি বলেন, উপযুক্ত দ্বিপক্ষীয় কাঠামো ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে সফর হতে পারে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অর্থাৎ, ঢাকা সফরের দরজা বন্ধ করেনি; তবে কবে সফর হবে, সেটি নিয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়নি।

শেখ হাসিনা ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ
তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি হয়ে আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি। এর আগে রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমানের প্রেস সচিব জানিয়েছিলেন, দিল্লি সফর নিয়ে তখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের অবস্থানসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছিলো। ভারত বলেছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধ তারা প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করছে।

এর ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে না দেখে দুই দেশের অমীমাংসিত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে কোন বিষয়ে কী সমঝোতা হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে নেই।

আগে নভেম্বর নিয়ে আলোচনা হয়েছিল 
এর আগে সেপ্টেম্বরে দ্য হিন্দু-এর বরাত দিয়ে বিডিনিউজ২৪ জানিয়েছিল, দুই দেশের কর্মকর্তারা নভেম্বরের কোনো এক সময়ে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। কিন্তু সর্বশেষ হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দুই দেশের ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি এবং সফরের বিভিন্ন আয়োজন এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় অদূর ভবিষ্যতে সফরের সম্ভাবনা কম। ফলে নভেম্বরের সম্ভাবনাও এখন নিশ্চিত নয়।

সামনে যা হতে পারে
বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে- তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় সফরের সময়সূচি, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসংক্রান্ত আলোচনা এবং বাণিজ্য, সীমান্ত, ট্রানজিট ও কনস্যুলার ইস্যুতে প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠকগুলো। সফরটি কবে হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সফরের সম্ভাবনা নাকচ না করা এবং দুই দেশের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার তথ্য থেকে স্পষ্ট যে ঢাকা-দিল্লি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং সফরের আগে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক প্রস্তুতি ও সময়সূচি সমন্বয়ের কাজ চলছে।
সূত্র: Hindustan Times, The Business Standard, Reuters/বিডিনিউজ২৪, India Today এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র।

জেএম
আরও পড়ুন