রিয়াদ বিমানবন্দরে চলতি মাসে ২০ বার হামলা হুথিদের, নিহত ১৭: সৌদি জোট

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩২ পিএম

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মাসে ২০ বার হামলার চেষ্টা করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা—এমন দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি এসব তথ্য জানান। তাঁর দাবি, রিয়াদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৩৩৩ জন আহত হয়েছেন। তবে হতাহত ব্যক্তিদের পরিচয়, ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময় এবং এসব হতাহতের সঙ্গে প্রতিটি হামলার সম্পর্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।

জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত আবহা বিমানবন্দরেও হুথিদের হামলায় তিনজন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন।

এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। হুথিদের পক্ষ থেকেও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেন, আঞ্চলিক কয়েকটি পক্ষের সহায়তায় হুথিরা উন্নত সামরিক প্রযুক্তি অর্জন করেছে। তাঁর দাবি, এসব সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং বিস্ফোরকবোঝাই দ্রুতগতির নৌযান।

তিনি আরও জানান, ইয়েমেনের পার্বত্য এলাকায় হুথিদের ১২৭টি অস্ত্রের গুদাম ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ধ্বংস করেছে জোট। তবে এসব স্থাপনা ধ্বংসের দাবি এবং অভিযানের বিস্তারিত তথ্য স্বাধীন সূত্রে যাচাই করা যায়নি।

জোটের মুখপাত্র হুথিদের বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, গোষ্ঠীটির জোটের বিবৃতি মনোযোগ দিয়ে পড়া উচিত এবং এর অন্তর্নিহিত বার্তাও বুঝতে হবে।

জোটের বক্তব্যের পর হুথিদের সামরিক মুখপাত্র সৌদি আরবের আকাশসীমা ও বিমানবন্দরকে অনিরাপদ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে নতুন করে হুঁশিয়ারি দেন। তবে তাঁর বক্তব্যে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার আকাশসীমাকে এই সতর্কতার বাইরে রাখা হয়।

এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি বেসামরিক বিমান চলাচল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। তবে হুঁশিয়ারি দেওয়া আর বাস্তবে কোনো বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও নিরাপত্তা বিজ্ঞপ্তি গুরুত্বপূর্ণ।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটির সংঘাত আরও তীব্র হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হস্তক্ষেপ করে।

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের লড়াই অনেকটা কমে আসে। যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কিছু সময় কার্যত সংঘাতের মাত্রা তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু স্থায়ী রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অগ্রসর হয়নি।

সাম্প্রতিক উত্তেজনায় সৌদি আরব ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ায় হুথিদের সঙ্গে সংঘাত নতুন করে বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি জোটের অভিযোগ, হুথিরা এখন সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। অন্যদিকে, হুথিদের সামরিক মুখপাত্র সৌদি আকাশসীমা ও বিমানবন্দর নিয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সৌদি আরবের বিমানবন্দর, বন্দর ও জ্বালানি স্থাপনাকে ঘিরে হামলা ও পাল্টা হামলার আশঙ্কা বাড়লে এর প্রভাব ইয়েমেন-সৌদি সীমান্তের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিমান চলাচলে সতর্কতা, জাহাজ পরিবহনে নিরাপত্তাব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ আঞ্চলিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

তবে সৌদি জোটের দেওয়া হতাহতের সংখ্যা, ২০টি হামলার চেষ্টা এবং ১২৭টি স্থাপনা ধ্বংসের দাবিকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না। সংঘাতের প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণে ঘটনাস্থলের তথ্য, হাসপাতালের নথি, বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সূত্র: সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্রের সংবাদ সম্মেলন এবং সরবরাহকৃত সংবাদ প্রতিবেদন।

এমএজেড
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত