'ইরানের অধিকারকে সম্মান না জানালে হরমুজ বন্ধই থাকবে'

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

ইরানি জাতির অবিচ্ছেদ্য অধিকারকে সম্মান জানানো না হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তিনি বলেছেন, ইরানের অধিকার উপেক্ষা করে শত্রুপক্ষ চলতে থাকলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে চলাচলের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে তেহরানের ইমাম আলী সামরিক কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ একাডেমির মসজিদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ অবস্থান তুলে ধরেন হাতামি। একাদশ জাতীয় ইতেকাফ কংগ্রেস এবং অষ্টম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক, সাহিত্যিক ও শৈল্পিক ইতেকাফ উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইরানি জাতির অধিকারকে শত্রুপক্ষ সম্মান না করলে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকবে।

ইরানের শক্তির চারটি প্রধান ভিত্তির কথা উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, এগুলো হলো দেশের জনগণ, সশস্ত্র বাহিনী, রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো এবং ইরানের ভূরাজনৈতিক অবস্থান। তাঁর মতে, এই চারটি উপাদান একসঙ্গে শত্রুপক্ষের হিসাব-নিকাশ সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে ইরানি জনগণের ভূমিকার কথা তুলে ধরে হাতামি বলেন, দেশের সম্মানিত জনগণ নিজেদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনিও এ বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ তদারকি রয়েছে বলেও দাবি করেন সেনাপ্রধান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রণালির পশ্চিমাংশ পরিচালনা করছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী। অন্যদিকে, পূর্বাংশ এবং ওমান সাগরের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইরানের নিয়মিত নৌবাহিনীর হাতে।

হাতামি বলেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে বলে যেসব দাবি করা হচ্ছে, সেগুলো সঠিক নয়। এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে। একাধিকবার গুলি চালিয়ে মোকাবিলা করা হয়েছে, এমন কয়েকটি জাহাজ ছাড়া কোনো শত্রুপক্ষের জাহাজ ইরানের সামুদ্রিক জলসীমায় প্রবেশ করতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের পরিকল্পনা ও হিসাব-নিকাশ ব্যর্থ করে দিতে জনগণ অগ্রণী এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেন হাতামি। তিনি বলেন, ইরানের শক্তির দ্বিতীয় প্রধান ভিত্তি হলো সশস্ত্র বাহিনী। যুদ্ধের একেবারে প্রথম দিকেই এই বাহিনী শত্রুপক্ষের অবস্থান লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে জবাব দিয়েছে।

সেনাপ্রধান আরও বলেন, বিপুলসংখ্যক সামরিক কমান্ডার ও কর্মকর্তার শাহাদাতের পরও ইরানের সেনাবাহিনী এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এসব ঘটনা সশস্ত্র বাহিনীর চলমান সামরিক কার্যক্রমে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি বলে জোর দেন তিনি।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে হাতামি আবারও বলেন, ইরানি জাতির অধিকারকে সম্মান করা না হলে এই জলপথে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ইরানি বাহিনী। তেহরান বারবার জানিয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে সমন্বিতভাবে অশত্রুভাবাপন্ন জাহাজগুলোকে এই জলপথ দিয়ে চলাচলের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে আগ্রাসনে জড়িত পক্ষগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শত্রুভাবাপন্ন জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাবে না। বিধিনিষেধ অমান্য করে তৈরি করা অবৈধ নৌপথগুলোও বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত