হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্মের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্ভয়ে, স্বাধীনভাবে এবং নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে পালন করতে পারেন বলে আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দুর্গোৎসবের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এ উৎসবের অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়।
এ ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের উন্নয়নে সরকারি সহায়তা, পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম জোরদারের কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি সবাইকে সত্য, ন্যায়, সংযম ও মানবকল্যাণের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দুর্গোৎসবের আনন্দ অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শারদীয় দুর্গোৎসব সবার জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ বয়ে আনবে—এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায় আবহমানকাল ধরে উৎসবমুখর পরিবেশে নানান আয়োজনের মাধ্যমে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে। যা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনন্য উদাহরণ।
দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবই নয়; এর সাথে মিশে আছে চিরায়ত বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। এ উৎসবে সমাজের সকল স্তরের মানুষ আবদ্ধ হন সৌহার্দ্যের বন্ধনে। মানুষে-মানুষে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়। শারদীয় দুর্গোৎসব সত্য-সুন্দরের আলোকে ভাস্বর হয়ে উঠুক, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরো সুদৃঢ় হোক-এ কামনা করি।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকার দেশের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুরূপ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়গুলোর পরিচালনা, সংস্কার ও উন্নয়নে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদানের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও জোরদার এবং ধর্মীয় কল্যাণমূলক অনুদান ও ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সকল ধর্মীয় সম্প্রদায় যেন নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্ভয়ে স্বাধীন, নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে পালন করতে পারেন-সে লক্ষ্যে কাজ করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাই।
প্রতিটি ধর্মই মানুষকে সত্য, ন্যায়, সংযম ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। অন্যায় ও অসত্য থেকে দূরে রাখে, মুক্তির পথ দেখায়। তাই আসুন, যার-যার ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলি, মানবতার কল্যাণে সকলে নিবেদিত হই। ধর্ম, বর্ণ বা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের কারণে কোনো মানুষ যেন বৈষম্য, বঞ্চনা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন তার নিশ্চয়তা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের, আমাদের সকলের। শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ সমাজের অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝেও যেন ছড়িয়ে পড়ে-আমি সেই আহ্বানও জানাই।
শারদীয় দুর্গোৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের সকলের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। সকল ভেদাভেদ ভুলে মানবতা, ন্যায় ও কল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক ঘরে ঘরে-শারদীয় দুর্গোৎসবে এ আমার একান্ত প্রত্যাশা। আমি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে দেশে ও বিদেশে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করি।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমানবিক: পেজেশকিয়ান
'জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি দিলে উপযুক্ত জবাব দেবে ইরান'
‘হিলারী ক্লিনটনকে যে কারণে 'বোকা' বললেন আসিফ নজরুল