দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় ট্রাম্পের প্রেস সচিব বরখাস্ত

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বরখাস্ত করা হয়েছে। পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক এবং প্রথম সংবাদ ব্রিফিংয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তার বিদায়ের খবর সামনে আসে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাকে পদটি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে বলেছিলেন। 

সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি জাকারিয়াকে জানিয়েছেন, এই কাজ করার কোনো বাধ্যবাধকতা তার নেই এবং তিনি নিজে জাকারিয়ার জায়গায় থাকলে পদটি নিয়ে আবার ভাবতেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, গণমাধ্যম জাকারিয়ার সঙ্গে খুব কঠোর আচরণ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমার মতে, কেটির সঙ্গে খুবই অন্যায্য আচরণ করা হয়েছে।’ তার দাবি, সংবাদমাধ্যম জাকারিয়াকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে এবং তাকে এ ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।

আইনজীবী পরিচয় নিয়ে বিতর্ক
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জাকারিয়ার আইনগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। ফক্স নিউজ ও নিউজম্যাক্সের মতো রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমে রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে আইন পেশায় কাজ করার অনুমতিপত্র বা বার লাইসেন্স পাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরে বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জাকারিয়া স্বীকার করেন, তিনি বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি। তিনি জানান, ২০১১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় পরীক্ষা দিয়েছিলেন, কিন্তু দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেননি। পেপারডাইন ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০৭ সালে স্নাতক এবং পেপারডাইন কারুসো স্কুল অব ল থেকে ২০১১ সালে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন জাকারিয়া। এরপর চীনের বেইজিংয়ে ঝং লুন আইন প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক লেনদেনসংক্রান্ত কাজে যুক্ত ছিলেন বলে তার পেশাগত জীবনের বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

জাকারিয়া দাবি করেছেন, তিনি আন্তর্জাতিক লেনদেনসংক্রান্ত আইন নিয়ে কাজ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তার ছিল। তবে আইন বিষয়ে ডিগ্রি থাকা এবং যুক্তরাষ্ট্রে আইন পেশায় কাজ করার জন্য অনুমোদিত আইনজীবী হওয়া এক বিষয় নয়। তার পেশাগত পরিচয় নিয়ে এ পার্থক্যই বিতর্কের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে প্রথম সংবাদ ব্রিফিং করেন জাকারিয়া। ব্রিফিংটি ১৫ মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী হয় এবং সেখানে মাত্র তিনজন সাংবাদিক প্রশ্ন করার সুযোগ পান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার উপস্থাপনা ও প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ধরন নিয়েও সমালোচনা হয়।

আইনজীবী পরিচয় নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ার পর এক সাংবাদিক ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, জাকারিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কোন অঙ্গরাজ্যে বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ট্রাম্প তাকে উত্তর দেওয়ার সুযোগ দিলে জাকারিয়া বলেন, ‘আমি যখন চীনে চলে যাই…।’ হেলিকপ্টারের শব্দের মধ্যে তার উত্তরটি স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি। পরে তিনি ব্যাখ্যা দেন, আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে স্বামীর কাজের কারণে চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বার পরীক্ষার ফলাফলকে সে সময় তিনি তেমন গুরুত্ব দেননি বলেও জানান।

দায়িত্ব ছাড়ার পর জাকারিয়া ট্রাম্পের প্রশংসা করে তাকে ‘দয়ালু, চমৎকার, উদার, চিন্তাশীল, উৎসাহী ও পরিশ্রমী’ বলে বর্ণনা করেন। ট্রাম্পের প্রশাসনে কাজ করার সুযোগকে সম্মানের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চেউং এর আগে জাকারিয়াকে অত্যন্ত যোগ্য ও মেধাবী বলে প্রশংসা করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মার্কিন জনগণকে জানাতে জাকারিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

তবে দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তার বিদায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ দলের জন্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে একজন শীর্ষ মুখপাত্রের পেশাগত যোগ্যতা যাচাই এবং জনসমক্ষে প্রশাসনের প্রতিনিধিত্ব করার প্রস্তুতি নিয়ে বিতর্ক সামনে এসেছে।

জেএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত