মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন থাকার ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৫ এএম

ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছে না ইসরায়েল। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ ও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে নতুন হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়নি।

ইরানে নতুন অভিযান নিয়ে আলোচনা

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগকে সম্ভাব্য পদক্ষেপের যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে নতুন যুদ্ধ শুরু করার চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নেতানিয়াহু নিজেও ১৪ অক্টোবর এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোকে ‘সুবিধাজনক নয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে মতপার্থক্যের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। কিছু সামরিক কর্মকর্তা নতুন হামলার বিকল্প বিবেচনার পক্ষে থাকলেও প্রশাসনের অন্যরা আপাতত নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের অবস্থান কত দিন অব্যাহত থাকবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে সেনা মোতায়েন দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিতকে নতুন হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। সামরিক প্রস্তুতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি—সবকিছুই পরবর্তী সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার প্রচেষ্টা এখনো পুরোপুরি থেমে যায়নি। কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব বিনিময়ের খবর পাওয়া গেছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল নিয়ে মতবিরোধ আলোচনাকে জটিল করে রেখেছে। 

সংঘাতের পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হলে তা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়তে পারে।

তবে ইসরায়েল নতুন হামলার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সেনা রাখার মেয়াদ বাড়াতে পারে—এই দুই বিষয় থেকেই যুদ্ধ আবার শুরু হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। আপাতত সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পাশাপাশি চলার মধ্যেই পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

এমইউ
আরও পড়ুন