ক্ষমতার জন্য কখনো বিএনপির সঙ্গে জোট গড়ার চেষ্টা করলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা শেখ হাসিনার দেখানো পথেই হাঁটতে বেশি পছন্দ করেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, অতীতেও আওয়ামী লীগ ও জামায়াত এরশাদ সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার অবস্থান থেকে সরে এসেছিল।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন রিজভী।
জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অতীতের যত কাজ, সে কাজগুলো কিন্তু আপনারা করেছেন শেখ হাসিনার পথ ধরেই। বেগম খালেদা জিয়া এরশাদ সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তার অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতও এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু পরে আওয়ামী লীগ সে অবস্থান থেকে সরে আসে এবং জামায়াতও সে অবস্থান থেকে সরে আসে। আপনারা (জামায়াত) তো প্রমাণ রেখেছেন ইতিহাসে। আপনারা হাসিনার পথে হাঁটতে সবচাইতে ভালোবাসেন। ক্ষমতার জন্য কখনো কখনো বিএনপির সঙ্গে জোট করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মনের ভেতরে হাসিনার প্রদর্শিত পথেই আপনারা হাঁটেন।’
জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘জামায়াতের আমির আজকেই বোধহয় একটা কথা বলেছেন, যে বিএনপি ফ্যাসিস্টদের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তা আমি তাকে বলতে চাই, ফ্যাসিস্টদের পথ কী? কোনটা পথ? একটা দৃষ্টান্ত দেখান।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সবকিছু মাফ করে দেওয়া কিংবা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বিএনপির কোনো নেতা বলেননি। বিএনপির প্রধান নেতা তারেক রহমানও এমন কথা বলেননি। অথচ এখন বিএনপির বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্টদের পথে হাঁটার অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
রিজভী বলেন, ‘বিএনপিকে জনগণ চেনে, বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, সেই প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হয় না। কিন্তু আপনারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেই প্রতিশ্রুতি আপনারা ইসলামের নামে দিয়েছেন, আল্লাহর নামে দিয়েছেন। অনেক কথা বলছেন মানুষের মনকে জয় করার জন্য। কিন্তু পরক্ষণেই উল্টো কাজ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ১৯৯৪-৯৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার আন্দোলনেও জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে একই পথে হেঁটেছে। ইতিহাসের এসব উদাহরণ উপেক্ষা করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মা ইলিশ সংরক্ষণে ১১১ এমপিকে মন্ত্রীর নির্দেশনা
নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সামরিক শক্তি বাড়াতে ইরানি সেনাপ্রধানের তাগিদ