বহু লোভ দেখানো হলেও জামায়াতে ইসলামী সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি বদলে গেলেও জামায়াত নিজেদের অবস্থান বদলাবে না। জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) উদ্যোগে ‘জুলাই সনদের ১ বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি জনগণকে মূর্খ মনে করে এবং অবমূল্যায়ন করে। তারা নিজেদেরই শুধু জ্ঞানী মনে করে। তারা প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে হাত দিয়েছে। ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছিলেন মেধার অধিকার আদায় করতে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে। তাঁরা রাষ্ট্রকে সেবা দিতে চান, আর সেই সুযোগ তৈরি হয় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে। একের পর এক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার পর এখন বিএনপি পিএসসিতে হাত দিয়েছে।
রাজনৈতিক সরকারের প্রভাব খাটিয়ে পিএসসির সদস্যদের পদত্যাগ করতে বলা হচ্ছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এটি কোনো মন্ত্রীর পারিবারিক ব্যবসা নয়। কোনো মন্ত্রীর এ কথা বলার অধিকার নেই। চাকরির এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রটি এখন পুরোপুরি দলীয় নেতা-কর্মীদের দিয়ে পূর্ণ করতে চায় তারা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি বলছে, যে এলাকার মানুষ তাদের ভোট দেয়নি বা দেবে না, সেই এলাকায় কোনো বরাদ্দ দেওয়া হবে না। বর্তমান রাষ্ট্রপতিও রংপুরে একই কথা বলে এসেছেন। বৈষম্যের বিরুদ্ধে বুক পেতে জীবন দেওয়া আবু সাঈদের এলাকায় গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘ভোট দেবেন জামায়াতকে, জাতীয় পার্টিকে, আর উন্নয়ন চাইবেন বিএনপির কাছে—এটা কি বিএনপির বাবার তহবিল থেকে উন্নয়ন হবে?’
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা হওয়া করের টাকায় শিশু থেকে শুরু করে সব পেশা ও শ্রেণির মানুষের অবদান রয়েছে। কেউ প্রত্যক্ষ কর দেন, কেউ পরোক্ষ কর দেন। এটি একটি সামষ্টিক তহবিল। গরিবের টাকা আলাদা করে রাখা হয় না, সব টাকা এক জায়গায় জমা হয়। সুতরাং, এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া শুধু অশালীনতা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় অপরাধ।
তিনি আরও বলেন, সরকারি দলের ২০০ জন সংসদ সদস্যের আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, অথচ বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্যকেও সেই বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এই বৈষম্যের জন্যই কি এতগুলো জীবন গেল? এ জন্যই কি ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব হয়েছিল? জুলাই বিপ্লব হয়েছিল পরিবর্তনের জন্য, বস্তাপচা রাজনীতির কবর রচনা করে নতুন রাজনীতির সূচনা করার জন্য। জনগণ এমনটাই আশা করেছিল। কিন্তু আবারও দেশকে সেই দিকেই টেনে নেওয়া হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সাত মাসেই রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। আগের স্বৈরাচার যে পথে হেঁটেছিল, হুবহু সেই পথেই এ সরকার হাঁটছে। বিরোধী দল কি গালে আঙুল দিয়ে বসে থাকবে? শত কারসাজি ও চুরি-চামারির পরও জনগণ তাঁদের যে কয়টি আসন দিয়েছে, সেই আসনগুলোর ৮৯ জন সংসদ সদস্য সারাদেশের ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি, বিএনপি বদলে গেলেও আমরা আমাদের কথা বদলাবো না। জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় আমরা আদায় করেই ছাড়বো, ইনশাআল্লাহ। আমাদের বহু লোভ দেখানো হয়েছে, কিন্তু আমরা সেগুলোর দিকে তাকাইনি; প্রত্যাখ্যান করেছি। যার ইচ্ছা, সে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করুক। কিন্তু হিমালয় পর্বতের মতো অটল থেকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাবে বিরোধী দল, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, তাঁদের আন্দোলন কোনো দলের জন্য নয়; প্রতিটি দাবি জনগণের জন্য। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা, ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করা, বৈষম্যহীন সমাজকাঠামো গড়ে তোলা এবং মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই আন্দোলন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশকে বাসযোগ্য করাও তাঁদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য। কোনো ধরনের চোখ রাঙানিকে তাঁরা পরোয়া করবেন না।
দেশের প্রতি ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, জ্বালাও-পোড়াও তাঁদের আন্দোলনের কর্মসূচি নয়। ২০২৪ সালে তাঁদের সন্তানেরা দেখিয়ে দিয়েছেন, জ্বালাও-পোড়াও ছাড়াও আন্দোলন করা যায়। খালি হাতে ঈমানি শক্তি ও দেশপ্রেম বুকে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ালেই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটানো সম্ভব। এটি তাঁদের জন্য শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা। এ পথেই তাঁরা এগিয়ে যাবেন এবং নব্য ফ্যাসিবাদের পতন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা বিএনপির পতন চাননি; বরং দলটির সফলতা চেয়েছিলেন। কারণ, বিএনপির সফলতা মানে দেশের সফলতা। তাঁরা দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবেন। তবে এই সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং সেই সহযোগিতা নেওয়ার যোগ্যতাও তাদের নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বাস্তবে সবার আগে বাংলাদেশ নয়, বরং তারা নিজেরা, নিজেদের পরিবার, সন্তান, ভাগনে, ভাতিজা, শ্বশুর ও স্ত্রীকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের হাতে প্রিয় বাংলাদেশকে তুলে দেওয়া হবে না। সেই দিন শেষ। তরুণেরা জেগে উঠেছেন; পূর্ণমুক্তি না আসা পর্যন্ত তাঁরা থামবেন না। তরুণদের সঙ্গে নিয়ে আরও শক্তিশালীভাবে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য দেন এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ অন্যরা।
হুথি হামলায় সৌদি গোয়েন্দা হেলিকপ্টার ভূপাতিত, দুই পাইলট নিহত
পুরোনো মামলায় রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
বিশ্বজুড়ে চাকরি পাবে না ৮০ কোটি তরুণ
রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত ১৮ হাজারের বেশি যাত্রী