রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৫ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিরোধী দল বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা করছে। সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও জনগণ দায়িত্ব দিয়েছে। তবে বিরোধিতা করতে গিয়ে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত হয়। এতে জুলাইয়ের শহীদদের পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন শেষে বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, সরকার ও বিরোধী দল—উভয়ই জনগণের ভোট ও সমর্থন নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে। তাই সরকারি দলকে জনগণের স্বার্থবিরোধী এবং বিরোধী দলকে জনগণের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দেখানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। দোষারোপের রাজনীতি পরিহার করে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সবাইকে কাজ করতে হবে।

বিরোধী দলের নেতাদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বিরোধী দলের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাঁরা অনুষ্ঠানে না এলেও জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের সঙ্গে একত্রে বসার সুযোগ ছিল।

তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের রাজনৈতিক দূরত্ব থাকতেই পারে। তবে যাঁদের আত্মত্যাগের কারণে আজ অনেকে সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলের নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করলে সেই আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে উপস্থিত থাকার মধ্য দিয়েও তা প্রকাশ করা যেত।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিরোধী দল যেমন সংসদে দায়িত্ব পালন করছে, তেমনি জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকারও রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। সরকারি দল মানেই জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করা—এমন ধারণা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমানের ভাষ্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিরোধিতার নামে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও জনগণের প্রত্যাশার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

এমইউ
আরও পড়ুন