মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির অগ্রগতিতে পাকিস্তান-সৌদি আরবের সন্তোষ

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪ পিএম

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে সৌদি আরবের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত রাজেহ তামি আলবুগামির বৈঠকে এ সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে আসিম মুনিরের সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ হয়। এতে উভয় পক্ষ মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এ পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ এবং কৌশলগত সমন্বয় আরও জোরদার করার গুরুত্ব তুলে ধরেন তারা।

বৈঠকে আসিম মুনির সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলবুগামির দায়িত্ব পালনকালে ইসলামাবাদ ও রিয়াদের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। দুই দেশের সম্পর্ক অভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস, পারস্পরিক আস্থা এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে সৌদি রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আলবুগামি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের কৌশলগত ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের আগে গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় পাকিস্তানের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ সমর্থনের কথা জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, ইসহাক দার সৌদি আরব ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃপ্রতিম এবং কৌশলগত সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দেন। পারস্পরিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে দুটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পাশাপাশি রয়েছে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট, যেখানে তুরস্কও অন্তর্ভুক্ত। এসব চুক্তির লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো।

চলতি মাসের শুরুর দিকে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক মক্কা জোটের আওতায় একটি জরুরি বৈঠকে বসে। ওই বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় প্রয়োজন হলে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের বিষয়ে একমত হয় দেশগুলো। বিবৃতিতে কোনো নির্দিষ্ট হুমকির নাম উল্লেখ করা না হলেও, সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার প্রেক্ষাপটেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল লক্ষ্য সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করা। চুক্তি অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতির ভিত্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার কথা রয়েছে।

এদিকে, রোববার সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, সৌদি আরবকে হুথিদের হামলা থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে পাকিস্তান। তাঁর এ বক্তব্যে রিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসলামাবাদের সমর্থনের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক বৈঠক ও প্রতিরক্ষা চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে দুই পক্ষের সন্তোষের মধ্য দিয়ে সৌদি আরব-পাকিস্তান সামরিক সহযোগিতার গুরুত্বও স্পষ্ট হয়েছে। সূত্র: ডন

এএস
আরও পড়ুন