ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া ইন্টারনেট ক্যাবলকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করে সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে আঞ্চলিক সংঘাত নতুন করে শুরু হলে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কা সামনে এসেছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবল গেছে। তার দাবি, এসব ক্যাবলের ওপর বিশ্বের ইন্টারনেট যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক তথ্য আদান-প্রদানের বড় অংশ নির্ভরশীল। শত্রুপক্ষকে এই অবকাঠামোর গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
এর আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব ও সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার মোহসেন রেজাই সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের পানির নিচের যোগাযোগ ক্যাবল, ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্থাপনায় হামলা হতে পারে।
সমুদ্রতলের ফাইবার-অপটিক ক্যাবল আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট, টেলিযোগাযোগ, ক্লাউড সেবা ও আর্থিক লেনদেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালির আশপাশের ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের যোগাযোগব্যবস্থা ও ডিজিটাল সেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করবে কোন ক্যাবল আক্রান্ত হচ্ছে এবং বিকল্প নেটওয়ার্ক কতটা কার্যকর তার ওপর।
তবে হরমুজ প্রণালির ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলেই বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি নেই। একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ প্রণালিতে সম্ভাব্য বিঘ্ন বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের তুলনায় সীমিত অংশকে প্রভাবিত করতে পারে; তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে এর প্রভাব গুরুতর হতে পারে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ক্যাবল মেরামত করাও জটিল হতে পারে। নিরাপত্তাঝুঁকি, মেরামতকারী জাহাজের চলাচল, বীমা এবং সংশ্লিষ্ট জলসীমায় প্রবেশের অনুমতির কারণে পুনরুদ্ধারে সময় লাগতে পারে।
ইরানের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তায় স্পষ্ট হয়েছে, সম্ভাব্য সংঘাতে তেল ও জাহাজ চলাচলের পাশাপাশি ডিজিটাল অবকাঠামোও কৌশলগত চাপ প্রয়োগের উপায় হয়ে উঠতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এই বক্তব্যকে সম্ভাব্য হামলার হুমকি হিসেবেই দেখা হচ্ছে; ক্যাবলগুলোতে হামলা হয়েছে এমন তথ্য এই প্রতিবেদনগুলোতে নেই।
এখনই ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
ইরানের নৌবাহিনী ‘সমুদ্রের তলদেশে’ রয়েছে: ট্রাম্প
বিদেশি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি সত্বেও নতুন মূলধনে গতি নেই