পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২২ পিএম

পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নদী দুটিতে ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে দেশের পানিসংকট দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ প্রকল্পের কাজ শুরু করে শেষ করারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, রাজশাহীর পদ্মা নদী কীভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে, তা তাঁরা দেখেছেন। নদীর পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের দুটি বড় নদী পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে পানিসংকট দূর করা যায়।

তিনি বলেন, পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে যত দূর যেতে হয়, সরকার চেষ্টা করবে। ইনশাআল্লাহ, দেশের মানুষের পানির হিস্যা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে এবং তা শেষও করা হবে।

কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, সারা দেশে প্রায় চার হাজার আখচাষিকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে আগামী মৌসুমে তাঁদের কষ্ট কিছুটা কমে। বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের কৃষক বাঁচলে কৃষিও বাঁচবে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো। সরকার গঠনের পর ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের ১৩ লাখ কৃষকের এ পরিমাণ ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

কৃষক কার্ড কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক, ভূমিহীন ও বড় কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এ কাজ শেষ হলে ধাপে ধাপে কৃষকদের হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। চলতি বছর সারা দেশে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক—নারী ও পুরুষ মিলিয়ে ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বছরে দুই বা তিনটি ফসল উৎপাদনকারী কৃষকদের অন্তত একটি ফসলের জন্য এসব উপকরণ যতটা সম্ভব সরবরাহের চেষ্টা করবে সরকার। এ ছাড়া কার্ডের মাধ্যমে ফসলের বিমা করা এবং ব্যাংকঋণ গ্রহণের সুযোগ সহজ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

খাল খনন ও নদী সংস্কার কর্মসূচি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, সরকার সারা দেশে খাল খনন ও নদী খননের কর্মসূচি শুরু করেছে। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দাবি, গত আট মাসে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খনন ও নদী সংস্কারের ফলে কৃষকেরা সেচের পানি পাবেন। পাশাপাশি রাজশাহীতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার যে সমস্যা রয়েছে, তা মোকাবিলায়ও সহায়তা মিলবে। খাল খননের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১ হাজার ৩০০ শয্যা রয়েছে। তা বাড়িয়ে ২ হাজার ৫০০ শয্যা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। এর ফলে গ্রামের মানুষকে সাধারণ চিকিৎসার জন্য দূরের জেলা সদর হাসপাতালে যেতে কম ভোগান্তি পোহাতে হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত