গাজায় সহায়তা কমানো ‘বিপর্যয়কর’, জরুরি সহায়তাবঞ্চিত পাঁচ  লাখ ফিলিস্তিনি

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৭ এএম

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্তকে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়কর’ বলে অভিহিত করেছেন শরণার্থী অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি নাতাশা হল। তাঁর মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় পাঁচ লাখ ফিলিস্তিনি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাতাশা হল বলেন, ডব্লিউএফপির সহায়তা কমানোর আগেও গাজায় যে পরিমাণ ত্রাণ প্রবেশ করছিল, তা যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনিদের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

তিনি বলেন, ‘এক বছরেরও বেশি আগে শুরু হওয়া কথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে ইসরায়েলের ওপর যে ধরনের চাপ প্রয়োগ করা প্রয়োজন ছিল, আমরা তা দেখিনি। ফলে সেখানে এখনো সংকটজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।’

নাতাশা হল জানান, জাতিসংঘের সমন্বয়ে প্রতিদিন গাজায় ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে তাঁর মতে, এই পরিমাণ ত্রাণও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের দুর্দশা কাটিয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট নয়।

গাজায় ত্রাণ সরবরাহের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির ছয় মাসের মাথায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করছিল। গত আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ৬০টির কিছু বেশি।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ সরবরাহের এই ঘাটতি গাজার মানুষের মানবিক সংকট আরও গভীর করেছে।

ডব্লিউএফপির সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্তকে ‘সত্যিই বিপর্যয়কর’ উল্লেখ করে হল বলেন, এর ফলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হারিয়েছেন।

যুদ্ধের কারণে গাজার খাদ্য, আশ্রয় ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ত্রাণ সহায়তা কমে যাওয়া সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হলের বক্তব্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।

সূত্র: আলজাজিরা।

এমইউ
আরও পড়ুন