দেশ ছাড়ছেন পাকিস্তানের আমলারা

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম

পাকিস্তানে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের প্রভাব বাড়ার মধ্যে দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তাঁর অভিযোগ, অনেক আমলা চাকরিতে থাকা অবস্থায়ই বিদেশে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এতে তাঁদের দেশের প্রতি আনুগত্য ও পেশাগত দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসিফ জানান, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের অনেক সরকারি কর্মকর্তা কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্তুগালসহ বেশ কয়েকটি দেশ পাকিস্তানি আমলাদের পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

‘আমলাতান্ত্রিক দেশত্যাগ’ নিয়ে উদ্বেগ

খাজা আসিফ সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে স্থায়ী হওয়ার এই প্রবণতাকে ‘আমলাতান্ত্রিক দেশত্যাগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করা কর্মকর্তাদের অনেকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

কোনো কর্মকর্তার নাম বা অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন না করেই আসিফ আরও দাবি করেন, এসব কর্মকর্তার স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (পিআর) পেতে সহায়তাকারী এক ব্যক্তি তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে পালিয়ে গেছেন।

বিদেশে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করা কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সম্পদ অর্জনের বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এসব কর্মকর্তা রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ থাকার পাশাপাশি বৈধ ও অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন।

আসিফ প্রশ্ন তোলেন, এসব কর্মকর্তার পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য কতটা আন্তরিক ছিল। বিদেশে স্থায়ী হওয়ার আগে তাঁদের কেউ কেউ পাকিস্তানকে কেবল সাময়িকভাবে বসবাসের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে চলে যাওয়ার এই অভিযোগ পাকিস্তানের প্রশাসন, বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলা এবং জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব

পাকিস্তানের বেসামরিক প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক বাহিনীর ব্যাপক প্রভাবের মধ্যে কাজ করছে। দেশটির রাজনীতিতে ঐতিহাসিকভাবে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

পাকিস্তান পিপলস পার্টির সমর্থনপুষ্ট প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ (এন) সরকার সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর মুনিরের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসিম মুনির নিজের বাড়তি প্রভাব কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে দেশটির গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও দুর্বল হয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত