হুমকির জবাবে নতুন প্রযুক্তিতে প্রতিরক্ষা জোরদারের পরিকল্পনা ইরানের

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পক্ষের ধারাবাহিক হুমকির মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘি বলেছেন, পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে জড়ানোর পরিবর্তে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই তেহরানের মনোযোগ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আখলাঘি জানান, প্রতিদিন কর্মদিবসের প্রথম এক ঘণ্টা তিনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স এবং ইরানি সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনায় ব্যয় করছেন।

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর মাধ্যমে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে চায় দেশটি। তাঁর মতে, বিদ্যমান হুমকিকে আরও কার্যকর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রেরণায় রূপান্তর করাই ইরানের লক্ষ্য।

আখলাঘি বলেন, ইরান শুধু কথার মাধ্যমে হুমকির জবাব দিতে চায় না; বরং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো মূল্যে ইরানের জনগণ নিজেদের মাতৃভূমি রক্ষা করবে।

পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনা এবং ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য সামনে এসেছে। এতে সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং আকাশ প্রতিরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।

আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, দেশটির সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী আকাশপথে সম্ভাব্য হামলা শনাক্ত ও মোকাবিলার দায়িত্ব পালন করে।

তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে নতুন কোনো অস্ত্রব্যবস্থা, নির্দিষ্ট সামরিক প্রকল্প কিংবা সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘোষণাটি ইরানের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গীকার তুলে ধরলেও, বাস্তবে কী পরিমাণ সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, তা এই প্রতিবেদন থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

তেহরানের বার্তা স্পষ্ট—হুমকির মুখে পিছু না হটে সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পথে এগোতে চায় ইরান।

এএইচএ
আরও পড়ুন