নির্বাচনে ইরানের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা, কঠোর হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ইরান ও তার মিত্ররা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমন কোনো চেষ্টা হলে শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দ্য জেরুজালেম পোস্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ইরান ও তাদের সহযোগীরা ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের উপায় খুঁজছে বলে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ও মোসাদের কাছ থেকে সতর্কবার্তা পেয়েছে তার সরকার। নেতানিয়াহু বলেন, আমাদের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ও মোসাদের কাছ থেকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা রয়েছে যে ইরান ও তাদের মিত্ররা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের উপায় বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, তারা এমন কিছু করলে সেটি হবে তাদের বড় ভুল। কারণ, আমরা এমন শক্তি দিয়ে জবাব দেব, যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না। নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান ও তার মিত্ররা এমন হামলার পরিকল্পনা করতে পারে, যার উদ্দেশ্য হবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ে জনগণের আস্থাকে দুর্বল করা। বিশেষ করে সামরিক ক্ষেত্রে ইসরায়েলের অর্জন নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তবে ইরান বা তার মিত্ররা বাস্তবেই নির্বাচনে হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা করছে কি-না, সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া গোয়েন্দা সতর্কতার বিবরণ হিসেবেই বিবেচ্য। সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ‘৯০ শতাংশ কাজ শেষ’ করেছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ইরান আবারও তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারে।

নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা যত দিন থাকবে, তারা নিজেদের সক্ষমতা আবার গড়ে তুলবে। তার এ বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইসরায়েল ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। নেতানিয়াহুর দাবি অনুযায়ী, সামরিক অভিযান চালিয়ে সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করা হলেও ইরান পুনরায় তা গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে। নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান ২০ হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অর্জনের পরিকল্পনা করেছিল। তার হিসাবে, দেশটির হাতে এখনো এক হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

অন্যদিকে, দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বিভাগের মূল্যায়নে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৬০০। তবে এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, প্রতিবেদনে তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই। তাই এগুলোকে ইসরায়েলি পক্ষের মূল্যায়ন ও দাবির ভিত্তিতে দেখা প্রয়োজন।

ইসরায়েলের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইরানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। তবে হস্তক্ষেপের অভিযোগ, গোয়েন্দা সতর্কতা এবং বাস্তবে প্রমাণিত কোনো কর্মকাণ্ড এগুলো এক বিষয় নয়।

জেএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত