সোমালিয়ায় বন্যায় ৮ লাখ ৭৪ হাজার মানুষের বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৩ এএম

আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ায় ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে আগামী তিন মাসে প্রায় ৮ লাখ ৭৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) জাতিসংঘের অভিবাসন-বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এ সতর্কবার্তা দিয়েছে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশটিতে ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৩১৯ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হতে পারেন। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ বাস্তুচ্যুতির কারণ হতে পারে বন্যা। ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিলের সঙ্গে তৈরি করা পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এ হিসাব দিয়েছে আইওএম। সংস্থাটি বলছে, খরা ও বারবার বাস্তুচ্যুতির কারণে আগে থেকেই সংকটে থাকা জনগোষ্ঠীর ওপর নতুন করে দুর্যোগের চাপ তৈরি হচ্ছে।

সোমালিয়ায় আইওএমের মিশনপ্রধান ম্যানুয়েল মার্কেস পেরেইরা বলেন, মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারাতে পারেন, এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটিতে বর্ষা মৌসুম শুরু হচ্ছে এমন সময়ে, যখন এল নিনোর প্রভাব আরও জোরালো হওয়ার সঙ্গে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি বৃদ্ধি ইতোমধ্যে বিভিন্ন জনপদের জন্য হুমকি তৈরি করছে বলে জানিয়েছে আইওএম। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে কৃষিজমি ও ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পানির উৎস দূষিত হতে পারে। ব্যাহত হতে পারে স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকারও। আইওএমের পূর্বাভাসে সোমালিয়ার বেলেদওয়েইন ও গালকাসিও শহরকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীর পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় এসব এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বন্যা দেখা দিলে বহু পরিবারকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বন্যার প্রস্তুতি ও জরুরি সাড়াদানের জন্য আইওএমের প্রয়োজন ১ কোটি ৬৬ লাখ ২০ হাজার ডলার। কিন্তু সংস্থাটি এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ সংগ্রহ করতে পেরেছে। এই অর্থের মাধ্যমে ৫ লাখ ১৭ হাজারের বেশি মানুষকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থসংকটের কারণে আগাম প্রস্তুতি, জরুরি আশ্রয় এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত আন্তর্জাতিক অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছে আইওএম। সংস্থাটির মতে, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, জরুরি সরিয়ে নেওয়ার পথ প্রস্তুত রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা জরুরি। সোমালিয়ায় খরা, বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির সংকট পরস্পরকে আরও জটিল করে তুলছে। নতুন করে ব্যাপক বন্যা দেখা দিলে শুধু মানুষের বসতিই নয়, খাদ্য উৎপাদন, সুপেয় পানির সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জেএম
আরও পড়ুন