অস্ট্রেলিয়ার একটি চিড়িয়াখানায় দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ডিম পেড়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় পাখি ক্যাসোয়ারি। ডাইনোসরের নিকটাত্মীয় হিসেবে পরিচিত এই উজ্জ্বল নিয়ন-সবুজ রঙের ব্যতিক্রমী ডিমটি ঘিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে চিড়িয়াখানার কর্মীদের মধ্যে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯৯২ সালের পর এই প্রথম তাদের প্রতিষ্ঠানে ক্যাসোয়ারির ডিম পাওয়ার ঘটনা ঘটল।
চিড়িয়াখানার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছর বয়সী স্ত্রী ক্যাসোয়ারি মার্টিনা ডিমটি পেড়েছে। তার সঙ্গী ১৩ বছর বয়সী পুরুষ ক্যাসোয়ারি জেফরি। চলতি বছরের আগস্টে পাখি দুটিকে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে রাখা হয়। চিড়িয়াখানার কর্মীদের কাছে ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে তাদের প্রতিষ্ঠানে এই প্রজাতির প্রজনন ঘটেনি। নতুন ডিমটি ক্যাসোয়ারি সংরক্ষণ ও প্রজনন কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্যাসোয়ারির ডিমের অন্যতম আকর্ষণ এর অস্বাভাবিক উজ্জ্বল সবুজ রং। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের খোসায় থাকা বিলিভারডিন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থের কারণে এমন রং দেখা যায়। এই রঞ্জক পাখির ডিমের খোসায় রং তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্যাসোয়ারি সাধারণত একাকী থাকতে পছন্দ করে। প্রজনন মৌসুমের বাইরে এরা একে অপরের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণও করতে পারে। তাই মার্টিনা ও জেফরিকে একসঙ্গে রাখার আগে তাদের আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিড়িয়াখানার কর্মীরা।
চিড়িয়াখানার কর্মী এরিন জানান, পাখি দুটিকে একসঙ্গে রাখার উপযুক্ত সময় নির্ধারণে তাদের আচরণ বিশেষভাবে লক্ষ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, নিচু স্বরে গম্ভীর ডাক দেওয়া এবং পাশাপাশি খাবার খাওয়ার সময় একে অপরের প্রতি সহনশীলতা—এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
পাখি দুটির মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি হচ্ছে কি-না, তা বোঝার জন্য তাদের মাঝখানে থাকা ছায়া দেওয়ার জালের কিছু অংশ সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বেড়ার দুই পাশে খাবার রাখা হয়, যাতে কর্মীরা কাছাকাছি অবস্থানে তাদের প্রতিক্রিয়া দেখতে পারেন। প্রজাতিটির নিয়ন্ত্রিত প্রজনন কর্মসূচির সুপারিশের ভিত্তিতেই মার্টিনা ও জেফরিকে একসঙ্গে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
ক্যাসোয়ারির প্রজননপ্রক্রিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, ডিম পাড়ার পর স্ত্রী পাখি সাধারণত বাসা ও ছানার পরিচর্যার দায়িত্ব পুরুষ পাখির হাতে ছেড়ে দেয়। পুরুষ ক্যাসোয়ারিই ডিমে তা দেয় এবং পরে ছানার দেখাশোনা করে। অস্ট্রেলিয়ার ঘন বৃষ্টিবনসহ আশপাশের অঞ্চলে ক্যাসোয়ারির বসবাস। বিশাল দেহের এই উড়তে অক্ষম পাখিকে অনেক সময় ডাইনোসরের নিকটাত্মীয় হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তাদের শক্তিশালী পা ও ধারালো নখর আত্মরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঘুমানোর সময় বালিশের পাশে মোবাইল রাখা কী নিরাপদ?
‘ইস! একটা বড় সুযোগ ছিলো, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করা যুবক গ্রেপ্তার
অনুষ্ঠানে একে-৪৭ দিয়ে গুলি ছোড়ার ভিডিও ভাইরাল, বিতর্কে নারী পুলিশ কর্মকর্তা