সাংবাদিকদের ‘বোকা’ বলে কটাক্ষ ট্রাম্পের

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

রাশিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে আবারও বিতর্কে জড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় সাংবাদিকদের ‘বোকা’ বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, ‘তোমরা কিছুই জানো না।’ সাউথ ক্যারোলাইনায় একটি সমাবেশে যোগ দিতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকেরা তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। রাশিয়া-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েই তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এর আগে রাশিয়া জানায়, ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধ করার অভিযোগে কারাদণ্ড পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ৭৪ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্টিফেন হাবার্ড মুক্তি পেয়েছেন। তাকে ছয় বছর ১০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

সিএনএনের সাংবাদিক কেইটলান কলিন্স ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, স্টিফেন হাবার্ডের মুক্তির বিনিময়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কিছুই চাননি—এমন দাবি কতটা সত্য। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যদি এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিতাম, তাহলে মিস্টার হাবার্ড ফিরে আসতে পারতেন না।’ সাংবাদিক কেইটলান কলিন্স এরপর ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে আপনি কি বিনিময়ে কিছু দিয়েছেন?’

এ প্রশ্নে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প সিএনএনকে ‘ভুয়া খবর প্রচারকারী’ বলে আখ্যা দেন। কলিন্সকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি কী বলছেন, তা নিজেই জানেন না। আপনি কম বুদ্ধিসম্পন্ন একজন মানুষ। আপনি বোকা।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপের সময় শুধু সিএনএন নয়, অন্য সংবাদমাধ্যমেরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদক তাকে প্রশ্ন করেন, স্টিফেন হাবার্ডের মুক্তির বিনিময়ে রাশিয়াকে কোনো সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না। বিশেষ করে, হাবার্ডের মুক্তি নিশ্চিত করতে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে কি না, তা জানতে চান ওই সাংবাদিক।

ট্রাম্প প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আপনি কি বোকা? আপনি কার জন্য কাজ করেন?’এবিসি নিউজের প্রতিবেদককে উদ্দেশ করে তিনি আরো বলেন, ‘আপনি একজন বোকা মানুষ। আর হ্যাঁ, আপনাদের সংবাদমাধ্যমটি সবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে ট্রাম্পের আগেও একাধিকবার বিরোধ

সাংবাদিকদের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তর্কে জড়ানোর ঘটনা এবারই প্রথম নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে তার একাধিকবার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের ‘ভয়ঙ্কর’, ‘নির্বোধ’ ও ‘বোকা’ বলার মতো মন্তব্যও করেছেন তিনি।

বোর্নমাউথ মিডিয়া স্কুলের যোগাযোগ ও গণমাধ্যম বিভাগের প্রভাষক অ্যামি টেটাম আগে নিউজউইককে বলেছিলেন, নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে ট্রাম্পের এমন আচরণ উদ্বেগজনক। তার মতে, এ ধরনের আচরণ নারীদের প্রতি আগ্রাসনকে স্বাভাবিক করে তোলে এবং অন্যদের কাছে ভুল বার্তা দেয় যে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য।

এ ঘটনার মাত্র এক দিন আগে ওভাল অফিসে এক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় ট্রাম্প ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’-এর সাংবাদিক অ্যান্ড্রু ফাইনবার্গকে ‘অসুস্থ ব্যক্তি’ বলে মন্তব্য করেন। ফাইনবার্গকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার সমস্যা কী? আপনি কি অসুস্থ?’ পরে তিনি আরো বলেন, ‘আমার মনে হয়, আপনারই কোনো সমস্যা আছে।’

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও সাংবাদিক অ্যান্ড্রু ফাইনবার্গের সমালোচনা করেছেন। এক্সে হোয়াইট হাউসের ‘@RapidResponse47’ অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে তার আচরণকে ‘লজ্জাজনক’ বলে উল্লেখ করা হয়। পোস্টে তার ব্যবহৃত একটি বহুল নিন্দিত আপত্তিকর শব্দের বিষয়েও সমালোচনা করা হয়।

ফাইনবার্গ আগে নিউজউইকে কাজ করেছেন। এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। গত কয়েক মাস ধরে হোয়াইট হাউস ও সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক বেশ উত্তপ্ত।

গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। পরে প্রশাসন এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতিপত্র বাতিল করে। তবে ২৪ সেপ্টেম্বর মার্কিন জেলা বিচারক টিমোথি কেলি প্রশাসনকে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএইচসিএ) সভাপতি জ্যাকি হেনরিকও সাংবাদিক অ্যান্ড্রু ফাইনবার্গের ওপর হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি কোনো সাংবাদিকের প্রশ্ন পছন্দ না করলেই তার সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ সীমিত করা উচিত নয়। তার মতে, এটি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ। জ্যাকি হেনরিক আরো বলেন, স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের স্বার্থে সাংবাদিকদের ভয় ছাড়াই কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। রাষ্ট্রপতির সমালোচনা বা কঠিন প্রশ্ন করার কারণে তাদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

এএইচএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত