ব্যালন ডি’অর ২০২৬

২৫ বছরের অপেক্ষা ঘোচাতে পারবেন হ্যারি কেইন?

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ এএম

ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ের অপেক্ষায় ইংল্যান্ড। ২৫ বছর ধরে দেশটির কোনো ফুটবলার এই পুরস্কার জিততে পারেননি। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) লন্ডনের প্যালাডিয়ামে বসছে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ২০০১ সালে ইংল্যান্ডের মাইকেল ওয়েন সর্বশেষ এই পুরস্কার জিতেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর কোনো ইংলিশ ফুটবলারকে ব্যালন ডি’অর হাতে দেখা যায়নি। এবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে কেইন সেই খরা কাটানোর অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠেছেন।

ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম কাটিয়েছেন কেইন

২০২৫-২৬ মৌসুমে গোল করার ক্ষেত্রে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করেছেন কেইন। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ছিল ৭৩। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন গোল-সাফল্য খুব কমই দেখা গেছে। সর্বশেষ ২০১১-১২ মৌসুমে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ৮২ গোল করে এমন নজির গড়েছিলেন।

গত মাসে এক সাক্ষাৎকারে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে কেইন বলেন, নিজের সম্পর্কে খুব বেশি কথা বলতে তিনি পছন্দ করেন না। তবে ব্যক্তিগত ও দলীয়—দুই দিক থেকেই গত মৌসুমকে জীবনের সেরা মৌসুম বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বুন্দেসলিগায় গত মৌসুমে ৩৬ গোল করে টানা তৃতীয়বারের মতো সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন কেইন। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শুও পেয়েছেন তিনি। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর গোলদাতাদের প্রতিযোগিতায় ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হলান্ডের চেয়ে নয় গোল এগিয়ে ছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

৩৩ বছর বয়সেও কেইনের এমন পারফরম্যান্স বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সাধারণত এই বয়সে অনেক স্ট্রাইকারের পারফরম্যান্সে ভাটা পড়ে। তবে কেইন প্রমাণ করেছেন, বয়স তাঁর গোল করার ক্ষমতায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

ব্যালন ডি’অর জিতলে ত্রিশের কোঠায় এই সম্মান অর্জন করা লিওনেল মেসি, লুকা মদরিচ ও করিম বেনজেমার মতো তারকাদের কাতারে নাম লেখাবেন তিনি।

কেইনের সামনে ইয়ামাল ও এমবাপ্পের চ্যালেঞ্জ

ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে কেইনের সামনে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী স্পেনের লামিনে ইয়ামাল ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল ইতিমধ্যে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তরুণ তারকা হয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী এমবাপ্পেও এই পুরস্কারের শক্তিশালী দাবিদার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর ইয়ামালও আলোচনায় রয়েছেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী রদ্রিও প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ নাম। ফলে কেইনের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান ভালো হলেও পুরস্কার জেতার পথে তাঁকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে।

২০১৪ সালে টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক হয়েছিল কেইনের। সে সময় ইয়ামাল ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, আর এমবাপ্পে পড়তেন মাধ্যমিক পর্যায়ে। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখন একই ব্যক্তিগত পুরস্কারের জন্য লড়ছেন তাঁরা।

চ্যাম্পিয়নস লিগ ও বিশ্বকাপের ফল কি বাধা হবে?

বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর জার্মান ফুটবলে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন কেইন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে তাঁর দল জিতেছে তিনটি শিরোপা—বুন্দেসলিগা, জার্মান কাপ বা ডিএফবি-পোকাল এবং জার্মান সুপার কাপ, যা ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার সুপারকাপ নামে পরিচিত।

তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে প্রত্যাশিত প্রভাব রাখতে না পারায় ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতার শিরোপা জিততে পারেনি বায়ার্ন। জাতীয় দলের হয়েও বিশ্বকাপে শিরোপা জেতা হয়নি কেইনের। ইংল্যান্ডকে নিয়ে তিনি টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

ব্যালন ডি’অর জিততে বিশ্বকাপ জয় বাধ্যতামূলক নয়। তবে বিশ্বকাপ কিংবা চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিতলে প্রার্থীর সম্ভাবনা বাড়ে। গত ১৯টি আসরের বিজয়ীদের মধ্যে মাত্র চারজন ওই বছর চ্যাম্পিয়নস লিগ, বিশ্বকাপ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ অথবা কোপা আমেরিকার কোনো শিরোপা জিততে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেই ব্যতিক্রমীদের মধ্যে রয়েছেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসি এবং পাঁচবারের বিজয়ী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তাই বড় প্রতিযোগিতায় শিরোপা না জিতলেও কেইনের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স তাঁকে এগিয়ে রাখতে পারে।

ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে কেইন

বুকমেকারদের হিসাব অনুযায়ী, এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন কেইন। মঙ্গলবারের হিসাব অনুযায়ী, পুরস্কার জয়ের বাজারে তাঁর সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের বিজয়ী উসমান দেম্বেলের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে তাই কেইনকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইয়ামাল ও এমবাপ্পের মতো কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বী পুরস্কার নিয়ে প্রকাশ্যে সরব থাকলেও কেইন তুলনামূলকভাবে নীরব। তবে বায়ার্ন মিউনিখ তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ক্লাবটি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে সতীর্থরা কেইনের ব্যালন ডি’অর জেতা উচিত বলে মত দিয়েছেন।

বায়ার্নের কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুইস দিয়াজ, যিনি নিজেও পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছেন, বলেছেন—কেইন নিঃসন্দেহে এই সম্মান পাওয়ার যোগ্য।

এবার ব্যালন ডি’অর জিতলে কেইন হবেন পুরস্কারজয়ী পঞ্চম ইংলিশ ফুটবলার। তাঁর আগে এই সম্মান পেয়েছেন স্ট্যানলি ম্যাথিউস, ববি চার্লটন, কেভিন কিগান ও মাইকেল ওয়েন।

এখন দেখার বিষয়, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের অসাধারণ ধারাবাহিকতা কাজে লাগিয়ে কেইন কি পারবেন ইংল্যান্ডের ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন