সৌদি ও আরব আমিরাতের সঙ্গে ট্রাম্পের জামাতার গোপন লেনদেন!

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রভাব খাটানোর বিনিময়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে।

মার্কিন সাময়িকী ভ্যানিটি ফেয়ারের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুই দেশের রাজপরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কুশনারের জন্য অন্তত ২ বিলিয়ন ডলার জমা করেছিলেন।

তবে কুশনার ও তার আইনজীবী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে সাংবাদিক ম্যাথিউ কোলের প্রকাশিতব্য বই প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস : জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মোহামেদ বিন জায়েদের সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট–এর একটি অংশের ভিত্তিতে। এতে দাবি করা হয়, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় কুশনারের আর্থিক লেনদেনের ওপর ডাচ গোয়েন্দারা নজরদারি করেছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডাচ গোয়েন্দারা কুশনারের আইফোনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরায়েলের নেতাদের সঙ্গে তার কথিত গোপন আর্থিক ব্যবস্থার তথ্য পান।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো ব্যাংক হিসাবের বিবরণ বা লেনদেনের নথি উপস্থাপন করা হয়নি।
ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়, কুশনার সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক হিসাবে প্রবেশ করছিলেন। আজারবাইজানের একটি ব্যাংক থেকে ওই হিসাবে কোটি কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত দাতব্য সংস্থা ওয়াতানি আল ইমারাত ফাউন্ডেশনের নামে ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে থাকা একটি হিসাবে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল।

কুশনার ওই হিসাবের মালিক না হলেও স্বাক্ষরকারী হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে হিসাবটি ব্যবহারের সুযোগ তার ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

হিসাবটি দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান তাহনুন বিন জায়েদ, যিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভাই।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এই আর্থিক ব্যবস্থার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মোহাম্মদ বিন জায়েদ ও সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য অর্জনে সহায়তার উদ্দেশ্যে তারা একটি গোপন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত না হলেও দুই দেশের রাজপরিবারের পক্ষ থেকে কুশনারের জন্য দুটি হিসাবে অন্তত ২ বিলিয়ন ডলার জমা করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে সাময়িকীটি।

প্রতিবেদনে আরো অভিযোগ করা হয়েছে, সৌদি রাজপরিবার কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য একটি পৃথক ব্যাংক হিসাবে ১ বিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এ অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কুশনারকে অর্থটি ইসরায়েলে জমা রাখার বিষয়ে উৎসাহিত করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তৎকালীন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যানের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে কুশনার যোগাযোগ করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখন পর্যন্ত আইনিভাবে প্রমাণিত নয়। অভিযোগগুলোর সমর্থনে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য আর্থিক নথিও প্রকাশ্যে আসেনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুশনার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি অভিযোগগুলোকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর মনগড়া গল্প’ বলে উল্লেখ করেন।

কুশনার লেখেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে এসব অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। তার ভাষায়, এটি সাংবাদিকতা নয়; বরং কল্পকাহিনি ও পক্ষপাতের মিশ্রণ।

তিনি আরো দাবি করেন, অভিযোগের পক্ষে কোনো ব্যাংক বিবরণী, অর্থ স্থানান্তরের রেকর্ড, হিসাব নম্বর, লেনদেনের তারিখ কিংবা যাচাইযোগ্য তথ্য দেওয়া হয়নি। তার দাবি, প্রতিবেদনে উল্লিখিত সময়ে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। সে সময় সংবাদ মাধ্যমের ব্যাপক নজরদারির পাশাপাশি একাধিক সংসদীয় তদন্ত ও বিশেষ কৌঁসুলির তদন্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।

কুশনার বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় এসব তদন্তে সহযোগিতা করেছেন এবং ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় জবানবন্দি দিয়েছেন। তার ভাষ্য, আগে কখনো এ অভিযোগ সামনে আসেনি, কারণ কথিত ঘটনাগুলো ঘটেনি।

কুশনারের আইনজীবী চ্যাড মিজেলও প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ অসত্য বলে অভিহিত করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিষয়টি স্মৃতির ভুল বা ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যার নয়; বরং এমন কোনো ব্যাংক হিসাবের অস্তিত্বই নেই বলে তার দাবি। প্রমাণ ছাড়াই এ ধরনের অভিযোগ তোলা মানহানিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ব্যবহারকারী কুশনারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে কি না জানতে চাইলে মিজেল বলেন, ‘সব পথই খোলা রয়েছে।’

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৪৫ বছর বয়সী কুশনার বর্তমানে প্রেসিডেন্টের অনানুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা দলের সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পাশাপাশি বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগে যুক্ত রয়েছেন তিনি। কুশনার ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্পের স্বামী। সূত্র : এনডিটিভি

এমএজেড
আরও পড়ুন