প্রতারণার মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করা এবং সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে উত্তর কোরিয়ার দুই নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাঁদের বিরুদ্ধে বিদেশে উত্তর কোরিয়ার সাইবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এসব কর্মকাণ্ড থেকে দেশটি বিপুল অর্থ আয় করে, যা তাদের অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের দপ্তর জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা উত্তর কোরিয়ার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো ভুয়া পরিচয়ে কাজ করা তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের মাধ্যমে দেশটির সরকারের জন্য অর্থ সংগ্রহে সহায়তা করে। এসব অর্থ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পারমাণবিক ও অস্ত্র কর্মসূচির কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব নিষেধাজ্ঞা এড়াতে দেশটি হাজার হাজার তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীকে অন্য দেশের নাগরিক পরিচয়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করাচ্ছে। এসব কর্মীর উপার্জিত অর্থ পরে উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে উত্তর কোরিয়া এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। দেশটির দাবি, এসব অভিযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো সতর্ক করে জানায়, উত্তর কোরিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা নিজেদের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছেন। গত মাসে নিউজিল্যান্ডের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাও জানায়, উত্তর কোরিয়ার এক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে দেশটির একটি প্রতিষ্ঠানে দূরবর্তীভাবে কাজ পেয়েছিলেন। পরে তাঁর পরিচয় প্রকাশ হয়ে পড়লে তিনি প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা দুই ব্যক্তি হলেন ইউ পু উং ও সিম হিয়ন সপ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সরকারও তাঁদের নাম প্রকাশ করেছিল।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় চীনভিত্তিক ইউ পু উংকে উত্তর কোরিয়ার অবৈধ অর্থ উপার্জন কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করেছিল, শনাক্ত হওয়া এড়াতে তিনি বিভিন্ন কৌশল ব্যবহারে দক্ষ।
অন্যদিকে, সিম হিয়ন সপকে উত্তর কোরিয়ার সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ‘ছায়া ব্যাংকার’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। দেশটির বাইরে ও ভেতরে অর্থ স্থানান্তরে ভূমিকা রাখার অভিযোগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের (এফবিআই) খোঁজের তালিকায় রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইকুয়েডরের দুই কারাগারে দাঙ্গা, নিহত ৮