সৌদিকে ঘায়েল করতে 'এপস্টিনের নথিকে' অস্ত্র বানাচ্ছে হুতিরা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন নয়, যুক্তরাষ্ট্রের যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের নাম ও সংশ্লিষ্ট নথিকে কাজে লাগিয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। মক্কার পবিত্র কাবার গিলাফ সৌদি রাজদরবারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এপস্টিনকে উপহার দিয়েছিলেন এমন প্রতিবেদনের সূত্র ধরে সৌদি আরবকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে গোষ্ঠীটি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ধাপে ধাপে প্রকাশ করা এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট নথিকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালাচ্ছে হুতিরা। এসব নথি নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সৌদি রাজদরবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এপস্টিনকে কাবার গিলাফের নকশা ও আবরণসংবলিত ট্যাপেস্ট্রি বা দেয়ালে ঝোলানোর কাপড় উপহার দিয়েছিলেন।

হুতিদের প্রচার কার্যক্রমে বিবৃতি, ভিডিও, গান, বক্তৃতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীদের পোস্টসহ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য সৌদি আরবের মতো প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে বিব্রত করা। সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে, যার সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে।

প্রচারের কেন্দ্রে মক্কা

চলতি গ্রীষ্মে যুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর হুতিদের প্রচার কার্যক্রম আরও গতি পেয়েছে। এসব প্রচারে নিজেদের বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে ইসলামের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরছে গোষ্ঠীটি।

গত মাসে সৌদি আরব অভিযোগ করেছিল, হুতিরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে হুতিরা এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবা মক্কায় অবস্থিত হওয়ায় এ অভিযোগ ধর্মীয়ভাবেও স্পর্শকাতর।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে হুতি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে গোষ্ঠীটির প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাতের একটি বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যারা এপস্টিনকে কাবার গিলাফ দিয়েছিল, তারাই মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করছে।’

চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের পর ট্যাপেস্ট্রি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন কিংবা হুতিদের অভিযোগের বিষয়ে সৌদি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

আল-মাশাতের বক্তব্য হুতিদের বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ইয়েমেনি কৌতুকাভিনেতা মোস্তফা আল-মোমারি এ বিষয় নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ২৭ লাখের বেশি। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইয়েমেনের একজন ঐতিহ্যবাহী সংগীতশিল্পীও এ অভিযোগ নিয়ে গান লিখেছেন।

প্রচারে প্রভাবশালীদের ব্যবহার

২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করে মারা যান এপস্টিন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। তাঁর নাম ও সংশ্লিষ্ট নথি নিয়ে বিতর্ককে কাজে লাগিয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে হুতিরা।

২০২৩ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর হুতি ও সৌদি আরবের বিষয়ে অবস্থান বদলানো ইয়েমেনি কৌতুকাভিনেতা মোস্তফা আল-মোমারি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা করেছেন।

হুতি নেতা আবদুল মালিক আল-হুতির বক্তৃতায়ও প্রায়ই এপস্টিনের প্রসঙ্গ উঠে আসে। গত ফেব্রুয়ারিতে এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘এপস্টিনের নথিগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এগুলো এমন এক জায়নবাদী আঁতুড়ঘর উন্মোচন করে, যেখানে নেতা ও অভিজাতদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।’

হুতিদের এই প্রচার কৌশল কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, এপস্টিনের নথি নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করা জনপ্রিয় ডানপন্থী পডকাস্টার জেক শিল্ডস এক পর্যায়ে হুতিদের প্রতিরোধক্ষমতার প্রশংসা করেন।

হুতিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বড় ভক্ত। আমার মনে হয়, তারা বেশ দুঃসাহসী।’

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত