বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরের শঙ্কা

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি আরো ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এটি পরবর্তী সময়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ারও শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’, যার অর্থ সাগর। তবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ এখনো ভারতের দিকে। এ কারণে বাংলাদেশের চার সমুদ্রবন্দরকে আগের মতোই ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি দক্ষিণপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর)  দুপুরে নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, গভীর নিম্নচাপটি দক্ষিণপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও আরও ঘনীভূত হয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরবর্তী সময়ে ক্রমান্বয়ে দিক পরিবর্তন করে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৮ অক্টোবর নাগাদ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, এটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে এর গতিপথ বাংলাদেশের দিকে হওয়ার শঙ্কা খুবই কম। যদিও এ আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখন পর্যন্ত যে গতিপথ রয়েছে,  তাতে ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’

জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) আঞ্চলিক প্যানেলের নির্ধারিত তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হয়। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্ধারণ করে এ অঞ্চলের ১৩টি দেশ। দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। তালিকা অনুযায়ী, পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির নাম হওয়ার কথা ‘অর্ণব’। নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত, যার অর্থ সাগর।

জেএম
আরও পড়ুন