কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনার পরিবর্তে দেশটির কর্মকাণ্ড আড়াল করার চেষ্টা করছে ইউরোপের কয়েকটি দেশসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো—এমন অভিযোগ করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দ্বৈতনীতি গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, কূটনীতির প্রতি ওয়াশিংটনের অবজ্ঞা আবারও প্রকাশ পেয়েছে।
বাঘাইয়ের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) কখনোই বিশ্বাস করেননি এবং এটিকে সময়ের অপচয় বলে বিবেচনা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতির দুর্বলতা প্রকাশ করে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ তেহরানের কাছে নতুন কিছু নয়। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে এবং কোনো বাধ্যবাধকতা অসুবিধাজনক মনে হলেই তা উপেক্ষা করেছে।
বাঘাই আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের দায় এড়াতে সহায়তা করার বা দেশটির আচরণকে আড়াল করার পক্ষে ইউরোপীয় রাষ্ট্র ও ওয়াশিংটনের অন্যান্য সমর্থকদের কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।
তিনি বলেন, ভঙ্গ করা প্রতিশ্রুতিকে অজুহাত দিয়ে বৈধতা দেওয়া যায় না, আন্তর্জাতিক আইনকে বেছে বেছে প্রয়োগ করা যায় না এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহি থেকে অব্যাহতি দেওয়া সম্ভব নয়।
ইরানের বক্তব্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারককে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি সামনে এসেছে। তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটনের বক্তব্য ও আচরণের মধ্যে কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষার ঘাটতি রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এবং ইসলামাবাদ সমঝোতার নির্দিষ্ট শর্তাবলি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়নি। ফলে সমঝোতা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের পূর্ণ বিবরণ গুরুত্বপূর্ণ।
নেতানিয়াহুর কী পতন ঘটছে?
ইসরায়েলে সরকার গঠনে কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ?