বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে নিলাম প্রক্রিয়ায় আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি করলো বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘ সময় পর গত সপ্তাহে বিক্রি করা হয় আরও ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার। জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ার এ সময়ে বাজার ঠিক রাখতে ডলার বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
বুধবারের (৪ নভেম্বর) নিলামে একটি ব্যাংক একক বিডে ন্যূনতম ৫ লাখ ডলার কেনার আবেদন করতে বলা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবারও ১০ কোটি ডলার বিক্রির জন্য নিলাম ডাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে অনেক ব্যাংক অংশ নিলেও শেষ সময়ে তা বাতিল করা হয়। কেন ওই নিলাম বাতিল করা হয়েছিল ব্যাংকগুলোকে তা জানানো হয়নি।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগ পর্যন্ত তিন বছর রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করা হয়। যে কারণে ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর পেরোনো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এরপর অন্তবর্তীকালীন সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকার ডলার বিক্রি বন্ধ রাখে। এতে করে রিজার্ভ বেড়ে গত ২৯ জুন ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। গত ১ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ উঠে ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে আবার কমে গত মঙ্গলবার ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ইসরাইলে ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে। যে কারণে বুধবার বিশ্ববাজারে তেল ও ডলারের দর কমেছে। বাংলাদেশেও চলমান পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়।
দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর গত কয়েকদিন ধরে ডলারের দর বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে আন্তঃব্যাংকে ১২৪ টাকা ছাড়িয়ে যায়। গত দুই দিন আন্তঃব্যাংকে ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা। এর আগের দুই দিন বিক্রি হয় ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা। এর আগে গত অক্টোবরের শুরুতে ডলারের দর ১২৩ টাকা ছিল। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে শেষ কর্মদিবসে তা ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সা হয়।
রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর কমেছে ডলার-তেলের দাম
৬২ হাজার টন কয়লা নিয়ে পায়রা বন্দরে মাদার ভ্যাসেল