যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয়কে ইরানের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার। তার দাবি, যুদ্ধের ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছে তেহরান। ফলে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য এখন দিতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোখবার এসব মন্তব্য করেন। মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল উল্লেখ করে তিনি লেখেন, অপরাধী ট্রাম্প তার দলের বিজয় নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সবকিছু করেছিলেন। কিন্তু নিজের জনগণের কাছ থেকেই তিনি চপেটাঘাত পেয়েছেন। এই লড়াইয়ের প্রকৃত বিজয়ী ইরান, যে যুদ্ধের ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে স্থানান্তর করতে পেরেছে। মোখবার আরও বলেন, ট্রাম্পের ব্যর্থ নীতি অব্যাহত থাকলে শহীদদের রক্তের দায় এবং ইরানি জনগণ ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের প্রতিরোধের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট আন্তর্জাতিক মর্যাদাও ক্ষয়প্রাপ্ত হবে।
পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে সতর্কবার্তা
এর আগে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন করে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড বিশ্বকে পারমাণবিক প্রতিরোধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছিলেন মোখবার। তার দাবি, বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত প্রায় ১৩০টি ওয়ারহেড বেড়েছে এবং পারমাণবিক অস্ত্রধারী নয়টি দেশই নিজেদের অস্ত্রভান্ডার আধুনিকায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও জার্মানির মতো পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন দেশও পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের ব্যবস্থা বা এ ধরনের নিরাপত্তা কাঠামোয় অংশগ্রহণের চেষ্টা করছে।
যুদ্ধের ময়দান ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরান
মোখবারের বক্তব্যে ইরানের যুদ্ধকৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। তেহরানের দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক মোকাবিলার পাশাপাশি দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন, অর্থনৈতিক চাপ এবং জনঅসন্তোষও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামরিক ব্যয়ের চাপ মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে থাকলে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
তবে মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়কে সরাসরি ইরানের সামরিক বিজয় বলা বিশ্লেষণগতভাবে যথার্থ হবে না। বরং এটি ইরানের রাজনৈতিক বয়ান বা কৌশলগত সাফল্যের দাবি। নির্বাচনী ফলাফলে যুদ্ধের প্রভাব থাকলেও তার সঙ্গে অন্যান্য অভ্যন্তরীণ ইস্যুর সম্পর্কও বিবেচনায় নিতে হবে।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
'আমাকে সিনেটর ডাকবেন', ট্রাম্পকে এল-সাইয়েদের খোঁচা
এআই বিপ্লবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ভোটারদের ‘ভূমিকম্প’