বরিশাল-২ আসনে আলোচনায় সাবেক হুইপপুত্র ব্যারিস্টার সাইফ

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:২০ পিএম

ইসির রোডম্যাপ ঘোষণার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি যাত্রা শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তী কালীণ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

তার নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের প্রথম দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা জানিয়েছে ইসি। ফলে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। নির্বাচনের এই বাতাবরণে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আগাম গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ করে নিজেদের প্রার্থীতার জানান দিচ্ছেন।

এবারের নির্বাচনে বরিশাল-২ আসনে বিএনপি থেকে অর্ধ ডজনেরও বেশি নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী। এসব নেতা এরই মধ্যে নির্বাচনি এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়াও জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থীরাও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বরিশাল-২ আসনে বিএনপি থেকে তরুণ ও যুব সমাজের কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হচ্ছেন তিন বারের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ প্রয়াত সৈয়দ শহীদুল হক জামালের ছোট ছেলে ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হক সাইফ। এলাকায় ক্লীন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত তিনি। সাবেক হুইপপুত্র ব্যারিস্টার সাইফের প্রার্থী হওয়ার খবরে তার পিতার অনুসারী নেতাকর্মীসহ এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। অফিস ও চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক আড্ডায় তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

প্রসঙ্গত, সৈয়দ শহীদুল হক জামাল তিন বার সংসদ সদস্য ছাড়াও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান, জাতীয় সংসদের হুইপ ও পিরোজপুর এবং মেহেরপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন। তিনি তার নির্বাচনি এলাকায় বহু স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, মসজিদ ও মন্দির নির্মাণসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেন।

এলাকাবাসী জানায়, তিনি ২০২০ সালের ১৮ মার্চ প্রয়াত হলেও এখনো নির্বাচনি এলাকায় তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। বাবার পথ অনুসরণ করে ব্যারিস্টার সাইফও এলাকায় মসজিদ, মাদরাসাসহ সেবামূলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবায় সহায়তা করছেন। ব্যারিস্টার সাইফ নির্বাচনে প্রার্থী হলে বরিশাল-২ আসনের পুরোনো সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ সৃষ্টি হবে। নির্বাচনে জামালপুত্র সাইফকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বরিশাল-২ আসনটি পুনরুদ্ধার করা সহজ হবে।

বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর সহিদুল ইসলাম বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী দিবে বিএনপি। সেক্ষেত্রে উজিরপুর-বানারীপাড়ায় ব্যারিস্টার সাইফুল হক সাইফের বিকল্প নেই। উচ্চশিক্ষিত ও তরুণ সমাজসেবক হিসেবে দুই উপজেলাতেই তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। নিজ উপজেলা বানারীপাড়ায় যেমন তার বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক রয়েছে; তেমনি সাইফের নানা বাড়ি উজিরপুরেও ব্যাপক জনপ্রিয় উদীয়মান এই নেতা।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মন্ডলীর সাবেক সদস্য সৈয়দ শহীদুল হক জামাল এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেন। যেকারণে আপামর জনতা এখনো একজন জামালকে খুঁজে বেড়ায়। ব্যারিস্টার সাইফ প্রার্থী হলে পাল্টে যাবে রাজনৈতিক দৃশ্যপট।

বানারীপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান চোকদার জানান, ব্যারিস্টার সাইফের বাবার যে সুনাম এবং এলাকায় যেসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অবদান তাতে দল যদি তাকে মনোনয়ন দেয় তবে অনেকের চেয়ে তিনি ভালো করবেন।

হাইকোর্টর আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হক সাইফ বলেন, ‘আমার বাবা বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে আমৃত্যু গণমানুষের সেবা করেছেন। বাবার মৃত্যুর ৫ বছর পরও এলাকার মানুষ তাকে ভুলে যায়নি। বাবার মতোই এলাকার দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। বাবার প্রতি ভালোবাসা থেকেই এলাকার জনগণ আমাকে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে চান।’

NJ
আরও পড়ুন