মশা মারতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়, তবু কেন মরছে না মশা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় মশার কামড়ে নগরবাসীর নাভিশ্বাস উঠলেও নিধন কার্যক্রমে কোনো গতি নেই। বিপুল অর্থ ব্যয় এবং নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর দাবির পরও কেন মশা মরছে না, তা খতিয়ে দেখতে এবার তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ডিএসসিসি। এই কমিটি মূলত ব্যবহৃত ওষুধের মান এবং মশককর্মীদের কাজের তদন্ত করবে।

ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, রমজান মাসে প্রতিটি ওয়ার্ডে বেলা ৩টা থেকে ইফতারের আগপর্যন্ত ৬ জন কর্মীর মশা নিধনের ওষুধ (ফগিং) ছিটানোর কথা। তবে গত কয়েক দিন রাজধানীর খিলগাঁও, ধানমন্ডি, যাত্রাবাড়ী, লালবাগ ও সেগুনবাগিচা এলাকা ঘুরে মশককর্মীদের দেখা পাওয়া যায়নি। ধানমন্ডির বাসিন্দা আহমেদ রনি বলেন, `সন্ধ্যার পর বারান্দায় দাঁড়ানো তো দূরের কথা, ঘরের ভেতরেও মশার কয়েল জ্বালিয়ে টেকা দায়।' একই অভিযোগ ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পথচারীদেরও।

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, মশা মারতে ভারত থেকে আমদানিকৃত ‘টেমিফস’ এবং চীন থেকে আনা ‘মেলাথিউন’ ব্যবহার করা হচ্ছে। ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান স্বীকার করেন যে, তার নিজের এলাকার বাসার আশপাশে ওষুধ ছিটিয়েও মশার উপদ্রব কমছে না। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষাগারে ওষুধের কার্যকারিতা মিললেও বাস্তবে কেন কাজ হচ্ছে না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে আমরা প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কাউকে রাখা হয়নি যাতে প্রতিবেদনটি নিরপেক্ষ হয়।’

হিসাব বিভাগের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে মশা নিধনেই প্রায় ১৮৮ কোটি টাকা খরচ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি। চলতি অর্থবছরেও এর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের বিপরীতে নগরবাসীর ভোগান্তি কমেনি বরং বেড়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলর না থাকায় তদারকি ব্যবস্থা ঝিমিয়ে পড়েছে। অনেক মশককর্মী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কাজ না করেই হাজিরা দিচ্ছেন। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের সময় মশা নিধন কার্যক্রমে যে ঢিলেমি ছিল, তার খেসারত এখন নগরবাসীকে দিতে হচ্ছে বলে মনে করেন অনেক কর্মকর্তা।

নগরবিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফগিং বা ধোঁয়া ছিটিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নির্মাণাধীন ভবন, ড্রেন ও ছাদের জমে থাকা লার্ভা ধ্বংস করতে বছরব্যাপী সমন্বিত পরিকল্পনা এবং মাঠপর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগণের করের টাকা ব্যয় হলেও মশা নিধনের সুফল অধরাই থেকে যাবে।