রাজধানীতে প্রতিবছরই বাড়ছে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা মরদেহের সংখ্যা। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ বছরে সংস্থাটির মাধ্যমে রাজধানীতে ২ হাজার ৫৪৭টি বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন করা হয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে বছরে গড়ে ৫০৯টি মরদেহ দাফন করেছে সংস্থাটি।
পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছরই বেওয়ারিশ মরদেহ দাফনের সংখ্যা বেড়েছে। ২০২২ সালে ৪৪৩টি, ২০২৩ সালে ৪৯০টি, ২০২৪ সালে ৫৭০টি এবং ২০২৫ সালে ৬৪৪টি মরদেহ দাফন করা হয়। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দাফন করা হয়েছে আরও ৪০০টি মরদেহ।
অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বেওয়ারিশ মরদেহ দাফনের সংখ্যা বেড়েছে ২০১টি। চলতি বছরের প্রথম আট মাসের হিসাবও বলছে, এ ধরনের মরদেহের সংখ্যা কমার কোনো স্পষ্ট প্রবণতা এখনো দেখা যাচ্ছে না। বছরের বাকি চার মাসে একই ধারাবাহিকতা থাকলে সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গড়ে প্রতিদিন রাজধানীতে অন্তত একটি মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হচ্ছে। তবে কোনো মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে মানেই ওই ব্যক্তির কোনো স্বজন বা পরিবার ছিল না—বিষয়টি এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রেই জীবিত অবস্থায় ওই ব্যক্তির পরিবার, স্বজন ও পরিচয় ছিল। কিন্তু মৃত্যুর পর মরদেহের সঙ্গে সেই পরিচয়ের সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয় না।
নিখোঁজ ব্যক্তির সঙ্গে মরদেহের মিল না পাওয়া, পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় নথি না থাকা, দুর্ঘটনায় চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়া কিংবা আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে একটি মরদেহ অজ্ঞাত থেকে যেতে পারে।
পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো মরদেহের ছবি, আঙুলের ছাপ, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ফোনসহ বিভিন্ন সূত্র ব্যবহার করে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় অনেক অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করাও সম্ভব হচ্ছে।
একজন মানুষের মৃত্যুর পর তার পরিচয় নিশ্চিত করা শুধু স্বজনদের কাছে নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ও ব্যবস্থার উন্নতির পরও রাজধানীতে প্রতিবছর কয়েক শ মরদেহ পরিচয়হীন অবস্থায় দাফন করতে হচ্ছে।