শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল ইউনিয়নের বালাশুরে সম্পত্তি লিখে না দেয়ায় নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধা মা সংবাদ সম্মেলন করেছেন ছেলের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ বালাশুর গ্রামের মরহুম সামসুল হক মৃধার স্ত্রী মেহেরুন নেছা তার নিজ বাড়িতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
এ সময় ভুক্তভোগী ৩ সন্তানের মা মেহরুন নেছার বড় মেয়ে শান্তনা বেগম (৫৮) ও ছোট ছেলে ফ্রান্স প্রবাসী মো: রমজান মৃধা (৪৮) উপস্থিত ছিলেন।
মেহেরুন নেছা (৮০) লিখিত বক্তব্যে বলেন, কয়েক বছর ধরে তার বড় ছেলে টুটুল মৃধা সম্পত্তি লিখে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। ২০১৮ সালেও টুটুল মৃধা তার নামে জোরপূর্বক ২২ শতাংশ জমি লিখে নেয়। এতেই ক্ষান্ত হয়নি টুটুল। এখন আমার পৈত্রিক সম্পত্তি লিখে নেয়ার জন্য টুটুল ও তার স্ত্রী হাবিবা আক্তার আমার ওপর অমানুসিক নির্যাতন করে আসছে। সম্পত্তি দিতে রাজি না হলে তারা আমাকে শারীরিক ও মানুসিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। আমার একমাত্র মেয়ে শান্তনা ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলতে পর্যন্ত দিচ্ছে না বড় ছেলে টুটুল ও তার স্ত্রী। আমাকে বাড়িতে একভাবে অবরুদ্ধ করে রেখেছে তারা। টুটুল আমাকে কোনো ভরণ পোষণের খরচ পাতিও দেয় না।
তিনি আরো বলেন, পারিবারিক এসব বিষয়ে ছোট ছেলে রমজান মৃধা খবর পেয়ে গত ১৬ আগস্ট ফ্রান্স থেকে দেশে চলে আসে। এতে টুটুল ও হাবিবা দম্পতি ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৭ আগস্ট রাতে আমার ঘরে এসে রেজেস্ট্রি অফিসে গিয়ে সম্পত্তি লিখে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এ পর্যায় ছোট ছেলে রমজান এসে প্রতিবাদ করলে তারা আমাকেসহ রমাজানকে মারধর করে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে গত ২৪ আগস্ট শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হই। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা বহিরাগত লোকজন নিয়ে বাড়িতে এসে পুনরায় মারধর করে। পুলিশ আসলেও টুটুল মৃধা দমেনি। জীবনের নিরাপত্তার অভাবে থাকতে হচ্ছে আমাদের। অভিযুক্ত টুটুল মৃধাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংশ্লিষ্টজনদের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
রমজান মৃধা অভিযোগ করেন, আমাকেও ফ্রান্স যেতে দেবে না বলে হুমকি দিচ্ছে বড় ভাই টুটুল মৃধা। প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলার হুমকি দিচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে টুটুল মৃধা ও তার স্ত্রী হাবিবা বেগমকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগে চেষ্টা করা হলে টুটুলের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ আগস্টের আগে টুটুল মৃধা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতো। সে মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়েছেন। রাজনীতির পট পরিবর্তণের সাথে সাথে টুটুল মৃধা বিএনপির রাজনীতি শুরু করেছেন।
এছাড়া রাজনৈতিক নেতা, আইজীবী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম বিক্রি করে এলাকায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে টুটুল মৃধার বিরুদ্ধে।