মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরশহরে এক পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু, কিশোর, যুবক, নারী, বৃদ্ধসহ ৪৯ জন পথচারী আহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকালে কুলাউড়া পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আহতদের মধ্যে ৪০ পুরুষ, ৭ নারী ও ২ শিশু রয়েছেন। আহতরা কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি কোনো ভ্যাকসিন নেই বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ সংকটের কারণে কুকুরের কামড়ে আহতদের নিজ খরচে ভ্যাকসিন দিতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, পৌর শহরের জয়পাশা, মাগুরা, বিছরাকান্দি, উত্তরবাজার, মাগুরা, পরিনগরসহ বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ করে একটি পাগলা কুকুর মানুষদের কামড়াতে শুরু করে। এ সময় পাগলা কুকুর অনেক মানুষকে কামড়ে আহত করে।
আহতরা হলেন- পৌর শহরের উছলাপাড়া গ্রামের মির্জা নজরুল ইসলাম (৪৭), জয়পাশা গ্রামের কামাল আহমদ (৫০), রুবেল মিয়া (৪০), বিছরাকান্দি গ্রামের আব্দুল বারী (৪০), সোনাপুর গ্রামের বাতির আলী (৬৬), মনসুর গ্রামের কামরুল বক্স (৪০), শিল্পী বেগম (৩০), কাদিপুর ইউনিয়নের আলফু মিয়া (৬৬), ভূকশিমইল ইউনিয়নের চিলারকান্দি গ্রামের নজরুল ইসলাম (৪০), ব্রাহ্মণবাজার এলাকার মছব্বির (৪০), হিঙ্গাজিয়া গ্রামের শেখ আনিকা (৫), কুলাউড়া গ্রামের আব্দুল্লাহ আহমদ (৫৫), বরমচালের আব্দুল হান্নান (২৭), হাসনা বেগম (৪০), রাউৎগাঁও ইউনিয়নের মুকুন্দপুরের অলক মালাকার (১৮), জয়চন্ডী ইউনিয়নের মীরশংকর গ্রামের কালা মিয়া (৩০), পুসাইনগর গ্রামের ফখরুল ইসলাম (৬৫), রামপাশার রেজিয়া আক্তার (৪৫), বিজয়া চা-বাগানের তাপসসহ (৪) অনেকে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত ৪৯ জনের মধ্যে ১৬ জনকে বিনামূল্যে সরকারি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভ্যাকসিন সংকট থাকায় বাকিরা বাইরে থেকে ক্রয় করে আনলে আমরা তাদের ভ্যাকসিন দেই।
তিনি বলেন, কুলাউড়া পৌরসভা থেকে তিনশ ভ্যাকসিন হাসপাতালে দেওয়া হয়। বর্তমানে সরকারিভাবে কোনো ভ্যাকসিন হাসপাতালে নেই। ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অবহিত করা হয়েছে।
কুলাউড়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে অসংখ্য পথচারী আহত হওয়ার খবর শুনেছি।