উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সচেতনতা বাড়াতে বরগুনায় গণসচেতনতামূলক মাঠ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ মহড়ায় দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি, সতর্কবার্তা প্রচার, নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া এবং উদ্ধার কার্যক্রমের বাস্তব অনুশীলন প্রদর্শন করা হয়।
মঙ্গলবার বরগুনা জেলা স্কুল মাঠে সদর উপজেলা সিপিপির আয়োজনে প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপী এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকেরা ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সংকেত পাওয়ার পর কীভাবে দ্রুত জনগণের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে হয়, কীভাবে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং দুর্যোগকালে উদ্ধার ও প্রাথমিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয় তার বাস্তবচিত্র তুলে ধরেন।
মহড়ায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ। সভাপতিত্ব করেন সিপিপি বরগুনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক মেছপা উর রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা সিপিপির টিম লিডার জাকির হোসেন মিরাজ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বরগুনা স্টেশনের স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ ইমদাদুল হক।
প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিপিপি বরগুনা পৌরসভা ৩ নম্বর ইউনিটের টিম লিডার জয়দেব রায়, কলাপাড়া সিপিপি স্টেশনের রেডিও অপারেটর মো. শহিদুল ইসলাম এবং আমতলী সিপিপি স্টেশনের রেডিও অপারেটর মো. সুমন।
মাঠ মহড়ায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ উপস্থিত থেকে দুর্যোগ মোকাবিলার বিভিন্ন কৌশল প্রত্যক্ষ করেন। আয়োজকদের মতে, এমন মহড়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগাম প্রস্তুতির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে, যা ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রাণহানি ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) কাজ করে যাচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় উপকূলের ৪২টি উপজেলায় আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, উদ্ধার কার্যক্রম, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং দুর্যোগবিষয়ক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে।