মামলার সাক্ষ্য দেওয়ায় নারীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

বরগুনার আমতলীতে ধর্ষণ মামলার বাদী কামাল হাওলাদারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ায় রেবেকা বেগম (৪৮) নামের এক নারীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) উপজেলার শাখারিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত রেবেকাকে প্রথমে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রেফার করেন।

স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি কামাল হাওলাদারের স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ এনে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নিজাম সিকদার ও হালিম মিস্ত্রির বিরুদ্ধে মামলা করেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আমতলী থানায় মামলাটি এজাহারভুক্ত করা হয়। মামলার তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় কয়েকজনের মতো রেবেকা বেগমেরও সাক্ষ্য নেয় পুলিশ। ওই সময় মামলার বাদী কামাল হাওলাদারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন রেবেকা। এতে ক্ষুব্ধ হন কামাল হাওলাদার।

আহত রেবেকা বেগম জানান, ওই দিন কামাল হাওলাদারের বাড়ির পাশে একটি টেইলার্সের দোকানে পোশাক আনতে গেলে কামাল হাওলাদারের স্ত্রী রেক্সেনার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কামাল হাওলাদার ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে (রেবেকা) কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেন। এতে তার মাথা ও কপালে জখম হয়।

রেবেকা আরও জানান, ওই মামলায় পুলিশ তদন্তে এলে তিনি সত্য সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ কারণে কামাল হাওলাদার ও তার স্ত্রী রেক্সেনা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কুলসুম জানান, তার কাছে পোশাক নিতে আসলে রেবেকাকে গালাগাল শুরু করেন কামাল হাওলাদারের স্ত্রী রেক্সেনা। পরে কামাল হাওলাদার চাপাতি দিয়ে রেবেকাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেন।

কামাল হাওলাদার মোবাইল ফোনে বিষয়টি স্বীকার করে জানান, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চাপাতি দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেছেন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মহুয়া জানান, আহত রেবেকাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

MU
আরও পড়ুন