বিদ্যুত সংকট

বরগুনায় চাহিদা ৫৭ মেগাওয়াট সরবরাহ ২৪ মেগাওয়াট

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

বরগুনায় বিদ্যুতের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলা সদরসহ ছয় উপজেলায় গড়ে প্রায় ৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ২৩ দশমিক ৫ থেকে ২৪ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি থাকছে প্রায় ৩৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মৎস্যনির্ভর পাথরঘাটা, আমতলী ও তালতলী। বিদ্যুৎ সংকটে বরফকলগুলো পর্যাপ্ত বরফ উৎপাদন করতে না পারায় বহু মাছ ধরার ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না।

অসহনীয় লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ঘেরাও, বিক্ষোভ ও স্মারকলিপির পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। ১০ আগস্ট সেই সময়সীমা শেষ হলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কিছুটা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও শুক্রবার(১৪ আগস্ট) আবার লোডশেডিং বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরগুনা শহরে ৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। সদর পল্লী এলাকায় ৮ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ মেগাওয়াট।
পাথরঘাটায় ১৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ৫ মেগাওয়াট এবং আমতলীতেও ১৩ মেগাওয়াটের বিপরীতে ৫ মেগাওয়াট। তালতলীতে ৫ দশমিক ৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ২ মেগাওয়াট। বামনায় ৬ দশমিক ৫ মেগাওয়াটের বিপরীতে ৩ মেগাওয়াট এবং বেতাগীতে ৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট।

ওজোপাডিকোর বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান বলেন, বরগুনা শহরে প্রায় ৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সাড়ে ৩ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ এলাকাতেও প্রায় ৮ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ মিলছে সাড়ে ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

এদিকে বিদ্যুৎ সংকটে প্রত্যন্ত ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলে ভোগান্তি আরও বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, সদর, আমতলী, পাথরঘাটা ও বেতাগী পৌর এলাকা এবং বামনা ও তালতলী উপজেলা পরিষদসংলগ্ন এলাকায় দিনে মোটামুটি ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও এসব এলাকার বাইরের ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ থাকছে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার মতো। কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর টানা এক থেকে তিন ঘণ্টা, কোথাও তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কাজকর্ম, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। বরগুনা পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় পানি উত্তোলন ও সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে জেলার মৎস্য খাতে। পাথরঘাটায় দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে বরফকলগুলো পর্যাপ্ত বরফ উৎপাদন করতে পারছে না। মাছ সংরক্ষণ ও সাগরে যাওয়ার জন্য ট্রলারগুলোতে বিপুল পরিমাণ বরফ প্রয়োজন হয়।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, পর্যাপ্ত বরফ না পাওয়ায় বহু ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। এতে জেলে ও ট্রলার মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

পাথরঘাটা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আরিফ শাহরিয়ার বলেন, গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় পাথরঘাটায় প্রায় ১৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে ৫ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

আমতলী পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মো. কাওসার আহমেদ বলেন, উপজেলায় ১৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৫ মেগাওয়াট। ৮ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকটে বরফ উৎপাদন কমে যাওয়ায় মৎস্য ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার(১৩ আগস্ট) বরগুনা শহরের বে অব বেঙ্গল কনভেনশন হলে জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে নাগরিক মতবিনিময় সভা হয়। সভায় জেলার ছয় উপজেলার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এবং দ্রুত সংকট সমাধানের দাবি জানানো হয়।

MCH
আরও পড়ুন