কুয়াকাটায় জেলের জালে ৫৪ কেজির তবল মাছ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিশাল আকৃতির ৫৪ কেজি ওজনের একটি তবল মাছ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে মাছটি পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য বন্দরে আনা হলে মুহূর্তেই সেটিকে ঘিরে তৈরি হয় কৌতূহল। বিশাল আকৃতির মাছটি একনজর দেখতে বন্দরে ভিড় করেন স্থানীয় লোকজন, জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। পরে খোলা বাজারে ডাকের মাধ্যমে মাছটি বিক্রি হয় ৩৬ হাজার টাকায়।

জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, এফবি সালমা করিম নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জাল ফেলার সময় তবল মাছটি ধরা পড়ে। মাছটি নিয়ে মঙ্গলবার সকালে ট্রলারটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফিরে আসে। এরপর আখি ফিশ ও তহুরা ফিশ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাছটি খোলা বাজারে নিলামে তোলা হয়। সেখানে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী রুবেল ঘরামী ৩৬ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন।

মাছটি বন্দরে ওঠার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেটিকে ঘিরে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। কেউ মাছটির ওজন ও আকার নিয়ে আলোচনা করেন, আবার কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তুলে রাখেন। 

স্থানীয় কয়েকজন জেলেরা জানায়, তবল মাছ গভীর সমুদ্রে পাওয়া গেলেও এত বড় আকৃতির মাছ খুব একটা ধরা পড়ে না। ফলে ৫৪ কেজি ওজনের তবল মাছটি বন্দরের মানুষের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয়ভাবে তবল মাছ ট্রেভ্যালি (Trevally) নামে পরিচিত। কুয়াকাটা ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় এ মাছ তবলি, বগা বা খাঁদিয়া নামেও পরিচিত। সুস্বাদু ও প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এ মাছের চাহিদা রয়েছে। তুলনামূলক কম কাঁটাযুক্ত হওয়ায় অনেকের কাছেই মাছটি পছন্দের।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘তবল মাছ ক্যারাঙ্গিডি (Carangidae) পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মাছ। বড় আকৃতির তবল মাছ ধরা পড়া বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এ ধরনের মাছের উপস্থিতি সাগরের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা পেতে গবেষণায়ও সহায়ক হতে পারে।’

তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের উপস্থিতি উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের বৈচিত্র্য তুলে ধরে। বড় আকৃতির মাছের আহরণ ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংরক্ষণ করা হলে সামুদ্রিক সম্পদ নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণায় তা কাজে লাগতে পারে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘জেলের জালে ধরা পড়া মাছটি ক্যারাঙ্গিডি (Carangidae) পরিবারের একটি মূল্যবান সামুদ্রিক মাছ। এ মাছ আকারে বেশ বড় হয় এবং এর অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের মাছ বেশি ধরা পড়লে জেলেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন।’