বরিশালের উজিরপুর পৌরসভায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো উদ্বোধনে লাল ফিতা কাটা, ঢোল-বাদ্য বাজানো এবং মিষ্টি বিতরণের আয়োজন ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। লাল ফিতা কেটে সাঁকোটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম খান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই উদ্বোধনী আয়োজনের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এলাকাবাসী নিজেরা চাঁদা তুলে প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ সাঁকোটি নির্মাণ করেন। এটি তৈরিতে বাঁশের পাশাপাশি সুপারিগাছ ব্যবহার করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে সাঁকোটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার সময় স্থানীয়রা ফুল ও বেলুন দিয়ে পুরো এলাকা দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজান। পরে অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে লাল ফিতা কাটার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ঢোল-বাদ্য ও বয়াতিদের গানের। উদ্বোধন শেষে উপস্থিত নারী-পুরুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অনেকে ঘটনাটিকে 'উন্নয়নের নামে লোকদেখানো প্রদর্শনী' হিসেবে মন্তব্য করেছেন। যোগাযোগের মতো মৌলিক জায়গায় একটি অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে স্থায়ী সমাধান না করে এমন মহোৎসব করা নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে, অনেকেই দীর্ঘদিন ভোগান্তিতে থাকা এলাকাবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করে যোগাযোগের ব্যবস্থা করাকে ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. শহিদুল ইসলাম খান জানান, ঘটনাটি সম্পূর্ণ এলাকাবাসীর উদ্যোগে ও উৎসাহে ঘটেছে।
তিনি বলেন, সাঁকোটি উদ্বোধনের আগাম কোনো প্রস্তুতি আমার জানা ছিল না। এলাকার নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছিল বলে স্থানীয়রা নিজেরাই সুপারিগাছ ও বাঁশ দিয়ে এটি তৈরি করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা আমাকে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে উপস্থিত প্রায় দেড় থেকে দুই শত মানুষ লাল ফিতা ধরে কাটার অনুরোধ জানালে আমি তা কাটি। এর মধ্যেই তাদের উদ্যোগে গান-বাজনা ও মিষ্টি বিতরণের আয়োজন করা হয়।