মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

বরগুনার বামনা উপজেলার খোলপটুয়া মাহমুদিয়া আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে অধ্যক্ষ, বর্তমান ও সাবেক সভাপতি এবং শিক্ষক প্রতিনিধির বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সহকারী অধ্যাপক (বাংলা) মো. মাসুম বিল্লাহ।

লিখিত অভিযোগে অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর, বর্তমান সভাপতি মো. আবদুল জলিল আকন্দ, সাবেক সভাপতি আবু সালেহ নান্টু ও শিক্ষক প্রতিনিধি মাওলানা দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাৎ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে তথ্য-প্রমাণও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগে বলা হয়েছে, উপাধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল ইসলামকে নিয়োগের সময় প্রায় ১৫ লাখ টাকা ও আড়াই শতাংশ জমির দলিল নেওয়া হয়েছে। আয়া পদে অধ্যক্ষের এক আত্মীয়কে নিয়োগের শর্তে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মী বাইজিদ হোসেনের নিয়োগের ক্ষেত্রেও পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। নির্ধারিত অর্থ দিতে না পারায় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাবদ সংগৃহীত তিন লাখ ২২ হাজার টাকার মধ্যে এক লাখ টাকা বকেয়া পরিশোধ করা হলেও অবশিষ্ট অর্থ মাদ্রাসার এক সহকারী অধ্যাপকের মাধ্যমে বার্ষিক ১৫ হাজার টাকা সুদে খাটানো হয়েছে। এ ছাড়া মাদ্রাসার বাগান থেকে প্রায় এক লাখ ৯৫ হাজার টাকার গাছ বিক্রি করা হলেও সেই অর্থ প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

সাবেক সভাপতি আবু সালেহ নান্টু জানান, তিনি সভাপতি থাকাকালে প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছেন, কখনো নেননি। অভিযোগের প্রমাণ কেউ দিতে পারলে তা মেনে নেবেন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।

বর্তমান সভাপতি মো. আবদুল জলিল আকন্দ জানান, ২০২১ সালের নিয়োগের সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। প্রায় এক বছর ধরে তিনি সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন এবং তার সময়ে কোনো নিয়োগ হয়নি। অর্থ আত্মসাতের বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। দুদকে অভিযোগ দেওয়ার বিষয়েও তিনি অবগত নন বলে জানান।

অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর জানান, এখানে কোনো ঘুষ-বাণিজ্য হয়নি। সুষ্ঠুভাবেই নিয়োগ হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে স্বার্থ হাসিলের জন্য কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি। দুদকে অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টিও তিনি জানেন না বলে জানান।